অধিকাংশ বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে "কোর্ট ম্যারেজ" নামক নোটারী পাবলিক দায়ী

অধিকাংশ বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে "কোর্ট ম্যারেজ" নামক নোটারী পাবলিক দায়ী
ছবিঃ সংগৃহীত

মানিক হাওলাদার, স্টাফ রিপোর্টার।।সরকার বাল্য বিয়ে বন্ধে আইন, জনসচেতনতা মূলক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা সত্বেও বাল্য বিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় "কোর্ট ম্যারেজ" নামক নোটারী পাবলিকের এভিডেভিট করেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রচারণা করে ছেলে-মেয়ে ঘর-সংসার করছে। বাস্তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর মাধ্যমে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। 

বিভিন্ন জায়গায় বাল্য বিয়ে নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী সরাসরি বাল্য বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে চান না।তবে তারা ছেলে ও মেয়ে পক্ষকে "কোর্ট ম্যারেজ" নামক নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এভিডেভিট করে তারপর বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে পরামর্শ দেন। এছাড়াও অনেক ছেলে ও মেয়ে ভালবাসার টানে ঘর থেকে বের হয়ে বিয়ের জন্য ছোটাছুটি করে। তখন তারা আত্নীয়-স্বজন,বন্ধু ও বিভিন্ন মহলের পরামর্শে আইনজীবীদের কাছে যান। এই সুযোগে কতিপয় আইনজীবী ছেলে-মেয়ের বয়স কম থাকা সত্ত্বেও তাদের বয়স বেশি লিখে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এভিডেভিট করে দেয়। সকল এভিডেভিটেই কাজীর মাধ্যমে বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করে নেওয়ার ও মোহরনার কথা উল্লেখ করা হয়।
এখানে একটি বাল্য বিয়ের বাস্তবতা তুলে ধরা হলো- ঝালকাঠি জেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের বাড়ৈয়ারা গ্রামের মোঃ বেল্লাল খাঁনের মেয়ে ঝালকাঠি জামিলা খাতুন স্কুল ও কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মোসাঃ বৃষ্টি আক্তার, জন্ম তারিখ -১৫/০৩/২০০৮ বর্তমান বয়স-১৩ বছর ৬ মাস। এই কিশোরী প্রেমের টানে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌর এলাকার মালিপুর গ্রামের মোঃ- কবির খানের পুত্র মোঃ কাওসার খানের বাড়িতে গত ২/১০/২১ তারিখ চলে আসে। এখানে উল্লেখ্য কাওসার খানের জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তারও ২১ বছর পূর্ণ হয়নি। এলাকায় বাল্য বিয়ের কথা রটে যাওয়ার আশঙ্কায় ওই প্রেমিক যুগল খুলনা চলে যায়। সেখানে তারা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে "কোর্ট ম্যারেজ" নামক নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে গত ৫/১০/২১ তারিখ এভিডেভিট করে নলছিটিতে চলে আসে। এরপরই শুরু হয় বিয়ের আয়োজন। গান-বাজনার মাধ্যমে আনন্দ-ফূর্তির মাধ্যমে এ ধরনের বাল্য বিয়ের অনুষ্ঠান চলে। অপরদিকে মেয়ে পক্ষ মামলা মোকদ্দমার জামেলায় না গিয়ে ছেলে পক্ষের কাছে মেয়েকে ফেরত দিতে আকুতি জানায়। কিন্তু ছেলে ও  মেয়ে তারা সাফ জানিয়ে দেয় যে, তারা "কোর্ট ম্যারেজ" করেছে। এ ঘটনা জানার পর এ প্রতিবেদক ওই বিয়ে বাড়িতে গেলে তারা বিয়ে করেছে বলে জানায়। এ প্রতিবেদক বিয়ের কাবিননামা দেখাতে বললে তারা নোটারী পাবলিকের একটি এফিডেভিটের কপি নিয়ে আসে। সেই এভিডেভিটে ১৩ বছর ৬ মাসের কিশোরীকে ১৯ বছরের যুবতী দেখিয়ে তাদের বিয়ের বৈধতা দিয়ে দেয়। এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরা হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। রাতেই নলছিটি থানার পুলিশ ওই বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কিশোরী বৃষ্টি আক্তারকে উদ্ধার করে তার অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু এ বাল্য বিয়ের ঘটনায় আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ বাল্য বিয়ের নামে মেয়েটিকে নিয়ে ছেলেটি ৩/৪ রাত্র যাপন করেছে। সরকার বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে হলে প্রথমেই " কোর্ট ম্যারেজ" নামক নোটারী পাবলিকের এভিডেভিট বন্ধ করা উচিত। এছাড়াও নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীরাও মাঝে মধ্যে বাল্য বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন করে,যা বন্ধ করতে হবে।