অনন্ত অসীমের পথে ফেরাহীন যাত্রা রাঙ্গুনিয়ার শিল্পপতি মীর ফজলুল হক 

অনন্ত অসীমের পথে ফেরাহীন যাত্রা রাঙ্গুনিয়ার শিল্পপতি মীর ফজলুল হক 
ছবিঃ সংগৃহীত
এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।অনন্ত অসীমের পথে ফেরাহীন যাত্রায় চলে গেলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া আগুনিয়া চা বাগানে স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মীর মোঃ ফজলুল হক।
সোমবার (২১ জুন) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুমের ছোট ভাই মীর মাহমুদুল হক জুনাইদ। 
তিনি জানান, তাঁর বড় ভাই মীর ফজলুল হক দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত কারণে নানা রোগে শারীরিক  সমস্যায় অসুস্থ ছিলেন। তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত (স্ট্রোক) কারণে বেশ কয়েক মাস যাবৎ শয্যাশায়ীও ছিলেন। গতকাল ২১ জুন বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে দ্রুত তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২ টায় মারা যান তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২২জুন) বিকাল ৪টায় (বাদে আছর) উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ৩ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 
মরহুম মীর ফজলুল হক ১৯৫১ সালের জানুয়ারি মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অবিভক্ত বৃহত্তর হোচনাবাদ (১৫ নং লালানগর) ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মন বৈদ্য (কবিরাজ বাড়ী) গ্রামের সমাজসেবী মরহুম মীর সুলতান আহমদ ও মরহুমা গুলতাজ বেগমের প্রথম পুত্র।
তিনি চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই বড় ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর।  এ জন্যই তিনি পড়াশোনা শেষ করেই শুরু করেছিলেন চা-পাতার ব্যবসা। তিনি এটাই বিশ্বাস করতেন, নীতি-নৈতিকতা আর একাগ্রতাই ব্যবসার মূলমন্ত্র। আর এটাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। তিনি রাঙ্গুনিয়ায় গড়ে তুলেছেন আগুনিয়া চা বাগান। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন শতাধিক সাঁওতাল মানুষের। তিনি ছিলেন লালানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। এছাড়াও তিনি উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সভাপতিসহ বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।