অবৈধভাবে সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ করে বহাল তবিয়তে জামায়াত নেতা কাশেম

অবৈধভাবে সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ করে বহাল তবিয়তে জামায়াত নেতা কাশেম
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সংবাদদাতা।।কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার জাহাজ পুরা মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম নামের এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। 

আবুল কাশেমের ছেলে ইরফান ও হিরো প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সরকারি পরিত্যক্ত জমি দখল করছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শিলখালী মৌজার বিএস ১ নং খাস খতিয়ানের ৬৬০৫,৬৭০০ দাগের ৪০ শতক সরকারি পরিত্যক্ত জমি অবৈধভাবে দখল করছে ভূমিদস্যু আবুল কাশেম ও তার দুই ছেলে ইরফান ও হিরো। জাহাজ পুরা মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পরিত্যক্ত সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে দোকান নির্মাণ করছে তারা। কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা। মুখ খুললে মিথ্যা মামলা ও শারীরিক নির্যাতন করবে বলে হুমকি দেয়। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলছেনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামায়াত নেতা আবুল কাশেমের পুত্র ইরফান বাহারছড়া যুবদলের ক্যাডার। ২০১৩ সালে জামায়াত বিএনপির হরতাল নামের জ্বালাও পোড়াও  এবং ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম করলে পুলিশ জামায়াতের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।যার নং জিআর ৬৩২/১৩।মামলায় ৫ নং আসামি জামায়াতের শীর্ষ নেতা আবুল কাশেমের পুত্র মোঃ ইরফান।

বর্তমানে সরকারি জমি দখল থেকে শুরু সকল অপকর্মে জড়িত ইরফান। এবিষয়ে টেকনাফের এসিল্যান্ড (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) ইরফানুল হক চৌধুরী জানান, সরকারি পরিত্যক্ত জমি অবৈধভাবে দখল করা যাবেনা।বিষয়টি দেখছেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরার পোস্ট মাস্টার আবুল কাশেম। জাহাজপুরা পোস্ট অফিসে ই-সেন্টারে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ডাক বিভাগ কর্তৃক ১  টি ল্যাপটপ,  লেজার প্রিন্টার, রঙ্গিন প্রিন্টার, স্ক্যানার, মডেম, কিবোর্ড, মাউসসহ কয়েক লাখ টাকার সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। কিন্তু পোস্ট অফিসে তা ব্যবহার না করে পোস্ট মাষ্টার আবুল কাশেম তার ছেলে ইরফানকে দিয়ে জাহাজপুরা মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে এবং সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে গত ২৯ আগস্ট। পোস্ট অফিসের সকল সরঞ্জাম পুড়ে ছাঁই হয়ে যায় বলে স্হানীয়রা জানিয়েছেন।

টেকনাফ উপজেলার উপকূলীয় বাহারছড়া জাহাজ পুরা পোষ্ট অফিসে পোস্ট ই-সেন্টারের সেবার মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রিন্টিং, কম্পিউটার কম্পোজ, ছবি প্রিন্ট, স্ক্যানিং, ই-লার্নিং, ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইন্টারনেটে পরীক্ষা ফলাফল প্রিন্ট, চাকুরির আবেদন, কৃষি তথ্য প্রদান, দেশ-বিদেশে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলাসহ বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল সেবা প্রদান।এসব নামে থাকলেও কার্যক্রম কিছু নেই। পোস্ট মাষ্টার আবুল কাশেম নামে থাকলেও কোন দায়িত্ব পালন করেনা বলে গুরুতর  অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পোস্ট অফিসটি খোলেনা। পোস্ট অফিসের মাস্টার থাকলেও কোনদিন তাকে দেখা যায়নি।পোস্টমাস্টার আবুল কাশেমকে কোনদিন অফিসে দেখেনি স্থানীয়রা। সারা দেশে ডাক বিভাগকে ডিজিটাল করা হলেও বা করার সুযোগ থাকলেও বাহারছড়ার মানুষ এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পোস্ট মাস্টার আবুল কাশেম তার ছেলে ইরফানকে দিয়ে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পোস্ট অফিসের পাশ্বে একটি ব্যবসা প্রতিষ্টান করে।সে ব্যবসা প্রতিষ্টানে পোস্ট অফিসের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, বাহির থেকে তালা ঝুলছি  টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার জাহাজপুরা পোস্ট  অফিসটি। একটি কক্ষে কিছু কাগজপত্র দেখা যাচ্ছে সেগুলোও আগুনে পুড়ে গেছে।  এবিষয়ে  জাহাজ পুরা পোস্ট মাস্টার আবুল কাশেমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।