আজ দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর

আজ দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর

মোহাম্মদ হাসান।। স্টাফ রিপোর্টার।। ১৭ আগস্ট, মংগলবার।।  আজ দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর।২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় ৫৫০টি স্থানে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

বিএনপি-জামায়াতের মদতে সংগঠিত জেএমবি সারাদেশে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় মুন্সীগঞ্জ জেলা বাদে দেশের ৬৩ জেলায় বেলা ১১টায় সিরিজ বোমা হামলা চালায়। দেশের ৪৫০টি স্থানে পাঁচ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এই হামলায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন দুই শতাধিক ব্যক্তি। হামলা চালানো হয় সুপ্রিম কোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেস ক্লাব ও সরকারি-আধা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে।

হামলার পর ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৫৯ মামলার বিচার এখনও শেষ হয়নি। অন্য মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ফরিদপুরের একটি মামলায় ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার পর জড়িত এক হাজারেরও বেশি জঙ্গি ধরা পড়ে। তবে অনেকেই জামিন নিয়ে এখনও পলাতক। পুলিশ সদর দফতর ও র‌্যাব সদর দফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জঙ্গি দমনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত জেএমবি এখন দুটি ধারায় বিভক্ত। পুরনো জেএমবি ও নব্য জেএমবি এই দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে এখনও তারা তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন এখন ভারত থেকে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছে।

অপরদিকে গুলশান ও শোলাকিয়ার ঈদগাহে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে নব্য জেএমবি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে। শীর্ষ জঙ্গিদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে। অনেকে আবার ধরা পড়েছে। কারাগারের বাইরে থাকা জঙ্গিরা গোপনে তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় দায়ের করা ১৫৯ মামলায় আসামি করা হয় ১৩০ জনকে। তবে অভিযোগপত্রে এক হাজার ৭২ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে জামিনে আছে ১৩৩ আসামি।

বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ৯৬১ জনকে। সাজাপ্রাপ্ত ৩২২ জনের মধ্যে ২৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাকি ২১ জন এখনও পলাতক। এসব মামলায় খালাস দেয়া হয়েছে ৩৫৩ জনকে। বাকি আসামিরা পলাতক। ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ১৭টি মামলার। অভিযোগপত্র দেয়া হয় ১৪২টি মামলার। মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৩টি মামলা হয় ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জে।

সর্বনিম্ন ৩টি করে মামলা হয় খুলনা মহানগর ও রেলওয়ে রেঞ্জে। মহানগরীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ডিএমপিতে। ডিএমপিতে ১৮টি মামলা হলেও ৯টি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে ৯টি মামলায়। এ পর্যন্ত হামলায় জড়িত সাত আসামির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ছয় আসামি হল- শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ইফতেখার হাসান আল মামুন।

একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, সাক্ষী হাজিরে রাষ্ট্রপক্ষের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই ৪৫টি মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। আদালত থেকে সাক্ষীদের বারবার হাজির হওয়ার সমন দিলেও তা ফেরত আসছে। কারণ, বেশির ভাগ সাক্ষীই আদালতের নথিতে দেয়া ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সাক্ষীদের মধ্যে অনেকে ভীতির মধ্যে রয়েছেন। জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, সিরিজ বোমা হামলার বেশ কয়েকটি মামলার হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে। দ্রুতই এসব মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যথাসময়ে আদালতে সাক্ষী হাজির করতে না পারায় মামলা নিষ্পত্তিতে সময় বেশি লাগছে।