আজ পবিত্র পবিত্র লাইলাতুল কদর

আজ পবিত্র পবিত্র লাইলাতুল কদর
ছবিঃ সংগৃহীত

মোহাম্মদ হাসান।। স্টাফ রিপোর্টার।। ০৯ মে, রবিবার।। আজ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ (সুরা: কদর, আয়াত-৩)। ঈমাম তাবারি (রহ.) তার তাফসিরে তাবারিতে উল্লেখ করেন, ‘লাইলাতুল কদরের আমল হাজার মাসের আমলের চেয়েও উত্তম, যার মধ্যে অন্য কোনো কদরের রাত নেই’ (তাফসিরে তাবারি)।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বিজোড় রাতের কথা বলেছেন তার মধ্যে আজকের দিবাগত সাতাশের রাতটি অন্যতম। মুমিন বান্দারা আজ সারা রাত ইবাদত-বন্দেগিতে পার করবেন। রোজা পালনকারী ইমানদাররা চোখের পানি ফেলে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে কায়মনে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের প্রতিটি মসজিদে সারারাত নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া দরুদ ও দ্বীনি আলোচনায় ব্যস্ত থাকবেন মুসিল্লরা। আর যারা মসজিদে আসতে পারবেন না, তারা বাড়িতে পার্থিব সব ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে পরওয়ারদেগারের কাছে পানাহ চাইবেন এবং নিমগ্ন হবেন প্রভুর ধ্যানে। নারীরাও আজ রাতে ইবাদতে অংশ নেবেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেদন। এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘লাইলাতুল কদর এক মহিমান্বিত রজনী। সিয়াম সাধনার মাসের এ রাতে মানবজাতির পথনির্দেশক পবিত্র আল কুরআন পৃথিবীতে নাজিল হয়। পবিত্র কুরআনের শিক্ষা আমাদের পার্থিব সুখ-শান্তির পাশাপাশি আখিরাতে মুক্তির পথ দেখায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মহিমান্বিত রজনীতে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষভাবে ইবাদত ও দোয়া-প্রার্থনা করি-যেন আল্লাহ বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তি দেন।’ 

আজকের রাতে আমাদের পরিবার-পরিজন সবার উচিত আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা। কেননা লাইলাতুল কদর এমন একটি রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব অনেকাংশে মহিমান্বিত এ রাতের কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে। লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের অর্থ হচ্ছে সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ রাত। বছরের যে কটি দিন ও রাত বিশেষভাবে মহিমান্বিত, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও বরকতময় হলো এ শবেকদর। পবিত্র রমজানের এ রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে নিু আকাশে মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়। কুরআন নাজিলের মাস হিসাবে রমজান যেমন বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত, তেমনি কুরআন নাজিলের কারণেই শবেকদর অতি ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, এ কুরআন আমি লাইলাতুল কদরে নাজিল করেছি। অন্য আয়াতে বলেন, রমজান মাস, এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে অভিহিত করেছেন। এর অর্থ হলো, সাধারণ এক হাজার মাস তথা তিরাশি বছর চার মাস প্রতি রাত জাগ্রত থেকে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি নফল ইবাদত করলে যে সওয়াব হবে, এই এক রাতের ইবাদতে তার চেয়েও অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা ‘আলফ’ তথা ‘হাজার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আলফ আরবি গণনার সর্বোচ্চ সংখ্যা। মুফাসসিররা বলেন, যদি এর চেয়ে বড় আরও কোনো সংখ্যা প্রচলিত থাকত, তাহলে আল্লাহতায়ালা হয়তো তা-ই ব্যবহার করতেন।