আপন খালাকে বুকে ছুরি চালিয়ে হত্যাকারী ভাগিনা ও তার বন্ধু প্রেপ্তার

আপন খালাকে বুকে ছুরি চালিয়ে হত্যাকারী ভাগিনা ও তার বন্ধু প্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিনিধি।। যশোরের আলোচিত আপন খালাকে পিঠে ও বুকে ছুরি চালিয়ে  হত্যা করে  স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়শা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন মোঃ বুরহান (২০) কে বাগেরহাট জেলার রামপাল থানাধীন ঝনঝনিয়া গ্রামে তার মামা হরমুজ আলীর বাড়ী থেকে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ০৮.৩০ মিনিটে এবং একই দিন বিকাল ৫.০৫ মিনিটে  মোঃ রিয়াজুল আলম চৌধুরী ওরফে হৃদয় (১৯) কে ডিএমপি ক্যান্টনমেন্ট গ্যারিসন এলাকায় রিয়াজুল এর খালু ইঞ্জিনিয়ার মোক্তার হোসেন এর ভাড়া বাড়ী থেকে গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত মালামাল, হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও হত্যার সময় তাদের পরনে থাকা ফেলে দেওয়া কাপড় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সূত্রে প্রকাশ, মোছাঃ রওশন আরা বেগম রোশনী (৫৩), স্বামী মৃত্যুর পর থেকে ছেলে পিএইচডি করতে আমেরিকা এবং মেয়ে ষ্ট্যাম্পফোড ইউনিভাসিটি, ঢাকায় পড়াশোনা করায় একা যশোরের নিজ বাড়ীতে বসবাস করতেন। একা থাকার সুযোগ নিয়ে হৃদয় তার বন্ধু বুরহানকে নিয়ে তার আপন খালা রোশনীকে ধারালো চাকু দিয়ে পেটে, বুকে ও গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে মৃতদেহ বক্সখাটের কাঠের চালার নিচে লুকিয়ে রেখে ২টি মোবাইল ফোন ও আলমারীতে থাকা স্বর্ণের ও ইমিটেশনের গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।ঘটনার পর গ্রেফতার এড়াতে হৃদয় ও বুরহান যশোর থেকে তাদের নিজ নিজ আত্মীয়ের বাড়ীতে পালিয়ে যায়।

 এস আই (নিঃ) স্নেহাশিস দাশ  জানায়, গত ২৯ আগস্ট বিকালে রওশন আরা বেগম এর মা মোছাঃ সেবিনা বেগম তার মোবাইল ফোনে বারবার কল দিয়ে তাকে না পেয়ে আশ্রম রোডের মেয়ের বাসার বাহিরের গেটের কলিং বেল দেয়। বাসার ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বাসার সামনের মেইন গেট খোলা থাকায় মেয়ের বাসার সামনে এসে গ্রীল গেটে তালা লাগানো দেখে পাশের রান্না ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের মধ্যে আলমারী খোলা এবং সবকিছু এলোমেলো দেখতে পায়।

 এরপর মোছাঃ সেবিনা বেগম জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সংবাদ পেয়ে পিবিআই, যশোরের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ভিকটিম মোছাঃ রওশন আরা বেগম রোশনী এর রক্তাক্ত মৃতদেহ তার বেডরুমের বক্সখাটের চালির নিচ থেকে উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় নিহত রওশন আরা বেগমের মা সেবিনা বেগম  বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পিবিআই তদন্ত করে রোশনী হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন মোঃ রিয়াজুল আলম চৌধুরী ওরফে হৃদয় এবং মোঃ বুরহান কে গ্রেফতার করে এবং তাদের দেখানো স্থান থেকে লুন্ঠিত মালামাল, হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও হত্যার সময় তাদের পরনে থাকা ফেলে দেওয়া কাপড় উদ্ধার করে ।পরবর্তীতে হৃদয় এবং বুরহানকে  জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

 এছাড়া লুন্ঠিত মালামাল নিজ দখলে রাখা ও হত্যাকান্ডের বিষয়টি গোপন রাখার অপরাধে মোঃ নাহিদ হাসান (১৯), পিতা-মশিউর রহমান এবং  মোসাঃ আসমা বেগম (৪০) নামের আরো দুই জনকে গ্রেফতার করে।

 গ্রেফতারকৃত সকলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।