আবর্জনার স্তূপে দূর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আবর্জনার স্তূপে দূর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ছবিঃ সংগৃহীত
এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।কোথায় ফেলা হবে বর্জ্য ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বছর পার। না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ-কেউই জায়গা চিহ্নিত করতে পারেননি। ফলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবর্জনায় স্তুপ করছে হাসপাতালেরই এক কোণে। আর সেই স্তুপ করা আবর্জনার দুর্গন্ধে জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ আবর্জনাও হাসপাতালের সামনের রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেও ফেলা হচ্ছে।
পৌরসভা পরিষদ ওই আবর্জনা পরিস্কার না করার জন্য দুষছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে (ডাক্তার)। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগের তির ছুঁড়েছেন পৌরসভার দিকে। ফলে এ দায়সারা মনোভাবেই আবর্জনার স্তূপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে হাসপাতালের ভিতরে ও বাহিরে । তবে মেয়র আবর্জনা ফেলার জায়গা চিহ্নিত করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু কবে সেই কাজ শুরু করবেন, তার সুনির্দিষ্ট জবাব মেলেনি।
হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ঠিক পিছনেই দীর্ঘদিন ধরে স্তুপ করা এই বর্জ্যের পাহাড়। এর কাছাকাছি এক ডাক্তারের কক্ষ, শিশু প্রকল্পে শিশুদের রোগনির্ণয় কেন্দ্র, যক্ষা বিভাগ ও অফিস রয়েছে। ওই বিভাগগুলির কর্মীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এখানে বর্জ্য জমতে জমতে অবস্থা এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে দুর্গন্ধে থাকা যায় না। গত কয়েকদিন ধরে  বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে । অফিসের ভিতরেও দরজা-জানলাও খুলে বসে থাকা যায় না। সমস্যায় রয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরাও। ওই স্তূপের পাশ দিয়েই তাঁদের অনেককে নাকে রুমাল মুখে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। যেখানে বর্জ্য জমছে, সেই দেওয়ালের পাশেই প্রাচির ঘেষে ওষুধের দোকান।
হাসপাতাল পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা মঞ্জু রানী দাস বলেন, ওই বর্জ্যের কারনে জানালা খুলে বসাও যায়না। দুর্গন্ধে পরিবেশ দুষন হয়ে উঠেছে। নাকে রুমাল দিয়ে নারী ও শিশুদের সেবা দিতে হচ্ছে গত এক বছর ধরে। কোথায় ফেলা হবে তা এখনও চিহ্নিত হয়নি। পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু পৌরসভাও আমাদের কোনও জায়গা দেখাতে পারেনি।
রায়পুর সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে সাধারণ বর্জ্য কোথাও ফেলার জায়গা না থাকায় একপাশে ফেলা হচ্ছে। আবর্জনাগুলো-পরিষ্কারের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে  বললেও তারা শুনছে না।।
রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, আমরা জায়গার সন্ধান করেছি। হাসপাতালের আবর্জনা তার ভেতরেই ফেলা হচ্ছে তা জানা নাই। মাটি খুঁড়ে গর্তে আবর্জনা ফেলার কথাও ভাবা হয়েছিল। কিন্তু তাও বাতিল করতে হয়েছে।তিনি জানান, একবার মাটি খুঁড়ে এ রকম বর্জ্য ফেলা হয়েছিল। তা সরিয়ে নিয় যাওয়া হবে।