আবারো পাগলীটা মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ!

আবারো পাগলীটা মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ!
সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তান সহ মায়ের ছবি//মোঃ ফোরকান

মোঃ ফোরকান,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।৩১ মে, সোমবার।। পটুয়াখালীর বাউফলের পল্লীর এক মাতুব্বর হাটের একটি টলঘর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলার কন্যা সন্তান জন্ম দিলে তাকে উদ্ধার করে ঠাঁই দিলেন বাউফল উপজেলা নিবার্হী অফিসার জাকির হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। আর ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীর সন্তান জন্ম দেয়ার পরে কৌতুহলি লোকজন দেখার জন্যে ভিড় জমাচ্ছে হাসপাতালে।

গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলা কালিশুরি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মাতুব্বরের হাটে এ ঘটনাটি ঘটে ।  স্থানীয় এক কলেজ ছাত্র মাহমুদুল হাসান জানান, চার-পাঁচমাস ধরে স্থানীয় লোকজন মানসিক রোগীটাকে দেখে আসছে ।    

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসব  ব্যথায় কাতর অজ্ঞাত মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা রোববার (৩০ মে) সন্ধ্যারাত থেকেই যন্ত্রনায় ছটফট করছে। কিন্তু তার এ কষ্টে কেউ এগিয়ে আসেনি। আজ সোমবার সকালে মাতুব্বরের হাটের একটি টলঘরের খোলা মেঝেতেই এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন ঐ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতী। সন্তান প্রসবের পরে রেনুবালা নামে একজন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসে। কন্যা সন্তান সহ জরুরী চিকিৎসা সাহায্য দরকার দু’জনেরই। 

স্থানীয় লোকজন মোবাইলফোনে উপজেলা নিবার্হী অফিসার জাকির হোসেনকে অবহিত করলে শিশু সন্তানসহ মাকে উদ্ধার করে বাউফল  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করা হয় । 
এ বিষয়ে চিকিৎসক এ.এস.এম সায়েম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন তাকে অবহিত করলে জরুরী ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে ওই মানসিক রুগীটিকে নবজাতক সহ সোমবার দুপুরে  উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা  বলেন মা ও নবজাতক ভালো আছে । তবে ওই মানসিক রোগী কোন অঞ্চলের তার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। 

এছাড়া অনেক অনুসন্ধানেও সদ্যজাত কন্যা সন্তানের পিতৃ পরিচয় পাওয়া যায় নি। মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কন্যা সন্তান জন্মদানের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পিতৃ পরিচয়হীন কন্যা সন্তানের দ্বায়িত্ব নিতে এ পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি কেউ।