আমতলীতে সাবেক জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন

আমতলীতে সাবেক জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন
ছবি: সংগৃহীত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।।বরগুনার আমতলীতে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামে।

শনিবার (২৩ জুলাই) রাতে ব্রিক ফিল্ড নামক স্থানে বসে আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের  আতাহার হাওলাদারের ছেলে ও আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র মোঃ হোসেন এর সাথে পার্শ্ববর্তী চুনাখালী গ্রামের ইদ্রিস প্যাদার মেয়ে ও স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্য বিবাহ একই এলাকার মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বাশার মাহমুদ এর নেতৃত্বে ও বরগুনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ নাসির হাওলাদার ও কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কায়সূর রহমান ফকুর বড় ভাই ফজলুর রহমান এর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। 

ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক লোক জানিয়েছেন, এলাকার কিছু ধান্দাবাজ লোক অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই কাজ করছে।

এবিষয়ে ছেলের বাবা আতাহার হাওলাদার বলেন, ছেলে মেয়ের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক থাকায় মেয়ের বাবার সাথে কথা বলে মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বাশার মাহমুদকে সাথে নিয়ে বরগুনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ নাসির হাওলাদার ও কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কায়সূর রহমান ফকুর বড় ভাই ফজলুর রহমান এর উপস্থিতিে এই বিবাহ হইছে, চেয়ারম্যান ও বিষয়টা জানে। 

বাল্য বিবাহে নেতৃত্বদানকারী বাশার মাহমুদ বলেন, বরগুনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ নাসির হাওলাদার ও কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কায়সূর রহমান ফকুর বড় ভাই ফজলুর রহমান এর উপস্থিতিে এই বিবাহ হইছে, চেয়ারম্যান ও বিষয়টা জানে। 

বাল্য বিবাহের বিষয়ে আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবর রহমান বলেন, মোঃ হোসেন আমার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র, এধরণের ঘটনা ঘটানো ঠিক হয় নাই, আমি একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে বলবো, যাহাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এই ঘটনায় গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবদুল হক  ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন।  

এবিষয়ে জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ নাসির উদ্দীন  এবাল্য বিবাহের ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানান। 

আঠারগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন মুঠোফোনে বলেন এই বাল্য বিয়ে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। 

কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, তিনি ও এ বিষয় কিছু জানেন না। এ ব্যাপারে জানার জন্য আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদের মুঠোফোনের দুটি নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।