আমরা হাসপাতালের বিপক্ষে নই তবে সিআরবিতে নয়, রেলমন্ত্রীকে অ্যাডঃ বাবুল

আমরা হাসপাতালের বিপক্ষে নই তবে সিআরবিতে নয়, রেলমন্ত্রীকে অ্যাডঃ বাবুল
ছবিঃ সংগৃহীত
এম. মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। আমরা হাসপাতালের বিপক্ষে নই, হাসপাতাল চাই। তবে সিআরবিতে নয়। সিআরবি ছাড়া অন্যত্র হাসপাতাল হলে আমরা স্বাগত জানাবো।
সোমবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রেল ভবনে নাগরিক সমাজ-চটগ্রাম'র নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে রেলমন্ত্রীর কাছে সিআরবি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের যাবতীয় অসঙ্গতির তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে এসব কথা বলেন নাগরিক সমাজ - চট্টগ্রাম'র সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডঃ ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল। 
ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল আরও বলেন, চাকসু জিএস শহীদ আবদুর রব, শহীদ মনোয়ার, শহীদ শেখ নজিরসহ ৯ শহীদের কবর এই সিআরবিতে। এখানে কোনো স্থাপনা হলে শহীদের কবর ধ্বংস হবে।
নাগরিক সমাজ - চট্টগ্রাম' এর উত্তাপিত অভিযোগ শুনে রেলমন্ত্রী বলেন, আইনী বাধা এবং চট্টগ্রামবাসী না চাইলে সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল হবেনা বলে জানিয়েছেন রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
রেল মন্ত্রী বলেন, এখানে হাসপাতাল করতে হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ থেকে নকশা অনুমোদন করতে হবে। সিডিএ যদি নকশা না দেয় সেখানে হাসপাতাল হবে কী করে। আর অন্যান্য সংস্থার অনুমোদনে আইনী বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে কোনো কিছু করা সম্ভব না। সবচে' বড় কথা চট্টগ্রামবাসী না চাইলেও সেখানে হাসপাতাল প্রকল্প হবে না। 
তিনি বলেন, সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প রেল মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেনি। এটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পিপিপি অথরিটির প্রকল্প। বিনিয়োগও বেসরকারি। সুতরাং রেল মন্ত্রণালয়ের এখানে করার কিছু নেই। নাগরিক সমাজের দেওয়া যাবতীয় তথ্য উপাত্ত আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবো, তিনিই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে আমার অভিমত হচ্ছে, আইন ও চট্টগ্রামবাসীর সেন্টিমেন্টের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। আমরা যা কিছু করছি জনগণের কল্যাণে। জনগণের কল্যাণে সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে। 
এ সময় মন্ত্রীকে অ্যাডঃ ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল। বলেন, সিআরবি হচ্ছে ২০০৯ সালের গেজেট অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত সরকার ঘোষিত হেরিটেজ জোন। এখানে কোনো ধরণের বাণিজ্যিক স্থাপনা হতে পারে না। আইনতঃ নিষিদ্ধ।  তাছাড়া এটি চট্টগ্রামের ফুসফুস এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। 
মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক সমাজ-চট্টগ্রাম'র কো- চেয়ারম্যান  বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস,  আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, জাসদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাজান চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়াউদ্দিন, নাগরিক সমাজ-চট্টগ্রাম'র যুগ্ম সদস্য সচিব ও বিএফইউজে'র যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম বিভাগ সাংবাদিক ফোরামের মহাসচিব শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী, আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, প্রণব চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম ও অনির্বাণ দত্ত প্রমূখ।