ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে আগামীকালের অপেক্ষায় গঙ্গাচড়াবাসী

ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে আগামীকালের অপেক্ষায় গঙ্গাচড়াবাসী
ছবিঃ সংগৃহীত

তৌহিদুল ইসলাম।।স্টাফ রিপোর্টার।।চতুর্থ ধাপে আগামীকাল ২৬ ডিসেম্বর রংপুরে ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৯টি ও বদরগঞ্জে ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়নে  চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা। এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে কয়েকটি ইউনিয়নে আপন ভাই, স্বামী-স্ত্রী ও মামা-ভাগ্নেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। 

পারিবারিক বিরোধের জেরে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন তিন ভাই। তারা একে অপরের বিষাদগার করায় ভোটাররা কাকে ভোট দিবেন তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

অপরদিকে দেখা গেছে নির্বাচনে স্ত্রী চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেও প্রার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন স্বামীর জন্য এবং ভাগ্নে প্রার্থী হয়েও ভোট ক্যাম্পিং করছেন মামার জন্য। তাদের লক্ষ্য একটাই, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ঠেকানো।

স্থানীয় ভোটারদের দাবি, এ ধরনের কৌশলের একটাই উদ্দেশ্য নির্বাচনে বিশেষ সুবিধা আদায়। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে অধিক গাড়ির ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীকে জয়লাভ করার চেষ্টা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুল, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গলের প্রার্থী আশরাফ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন (আনারস) ও নাজনীন আকতার (মোটরসাইকেল)। এদের  মধ্যে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুলের আপন ভাগ্নে মোসলেম উদ্দিন। আর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আশরাফ আলীর স্ত্রী নাজনীন আকতার।

পশ্চিম কচুয়া গ্রামের অমল চন্দ্র বলেন, টিটুলের প্রতিদ্বন্দ্বী সেজে ভাগ্নে মোসলেম নৌকার ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন, আবার স্বামী আশরাফের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও লাঙ্গল মার্কায় ভোট চাচ্ছেন স্ত্রী নাজনীন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপা প্রার্থী আশরাফ বলেন, আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমার স্ত্রীরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন বলেন, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করলেও তিনি আমার প্রতি ক্ষুব্ধ নন।

একই উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নেও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। তারা হলেন নৌকার প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু, লাঙ্গলের আব্দুর রউফ, স্বতন্ত্র মোনতাসির মামুন (মোটরসাইকেল) ও মোছা. মেনেকা মাহবুব (আনারস)। মেনেকা মাহবুব জাপা প্রার্থী আব্দুর রউফের স্ত্রী।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম বলেন, নিজে চেয়ারম্যানে দাঁড়ালেও স্বামীর লাঙ্গল প্রতীকের জন্য ভোট চাচ্ছেন মেনেকা।

অপরদিকে বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে তিন ভাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে শহিদুল হক আনারস প্রতীকে, মোতালেব হোসেন ঘোড়া প্রতীকে এবং একরামুল হক মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ভোটাররা বলছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এবারই প্রথম একই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে তিন ভাই প্রার্থী হয়েছেন। শহিদুল হক ওই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। বড় ভাই একরামুল হক নব্বই দশকে চেয়ারম্যান ছিলেন।

বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল হক ২০০৩ সাল থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে কালুপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বড় ভাই একরামুল হক ১৯৯১-৯৫ সালে চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে দুই ভাইয়ের সঙ্গে মেজো ভাই মোতালেব হোসেনও প্রার্থী হয়েছেন। গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়েছেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাচ্ছেন।

কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ছয় প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের আড্ডার আলোচনায় রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী আপন তিন ভাই। তারা একই পরিবারের হলেও ভোটযুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলেছেন না। এতে তাদের নিয়ে চলছে সমালোচনাও। 

সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, আমার ছোটভাই শহিদুল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকেও এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ভোটারদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি।

অন্যদিকে মেজো ভাই মোতালেব হোসেন বলেন, আমরা সম্পর্কে ভাই হলেও অতীত দেখেই ভোটাররা পক্ষ নেবেন। মানুষ পরিবর্তন চায়।

এ বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে এমন কিছু উল্লেখ নেই। যেকোনো ব্যক্তি তার নিজের ভোট অন্য কাউকে দিতে পারেন।