ইয়াবা কারবারী জব্বারের হুমকিতে সাংবাদিক মিজান ও এক নারী বীমা কর্মীর নিরাপত্তাহীন জীবন

ইয়াবা কারবারী জব্বারের হুমকিতে সাংবাদিক মিজান ও এক নারী বীমা কর্মীর নিরাপত্তাহীন জীবন
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার প্রতিনিধি।। কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার অলিয়াবাদ এলাকায় প্রাইম ইসলামী ইন্সুরেন্স লিঃ এ এসভিপি পদে কর্মরত ছমুদা বেগম নামের এক নারীর বসত বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়া,গালমন্দ করা, হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিকৃত তথ্য ও ছবি দিয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় ইয়াবা ব্যবসায়ী আবদু জব্বার।

এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ ছাড়াও বিষয়টি সাংবাদিকদের সাহায্য চাইতে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হন এই নারী। এই যাত্রায় রক্ষা পাননি স্থানীয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিজান। গত বৃহস্পতিবার 
ইয়াবা ব্যবসায়ী তার সহযোগীদের নিয়ে টেকনাফ উপজেলা বিএমএসএফ এর অফিসে এসে সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিজানসহ কর্মরত সাংবাদিকদের অকথ‍্য ভাষায় গালমন্দ, হত্যার হুমকি, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও সাংবাদিক কার্যালয় বন্ধ করে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করা হলে দ্রুত টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালল সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
বীমা কর্মী ছমুদা বেগম কতৃক থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের  পাঁচলাইশ থানাধীন আহাম্মদ মিয়ার প্রাইমারি স্কুল লেইন এলাকার মো. জলিল আহমদের স্ত্রী ও টেকনাফ অলিয়াবাদ এলাকায় বসবাসকারী ছমুদা বেগম প্রাইম ইসলামী ইন্সুরেন্স কোং লিঃ এ এসভিপি পদে কর্মরত আছেন।
টেকনাফ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার 
আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩৬) উক্ত ইন্সুরেন্সের গ্রাহক। সেই সুবাদে জব্বার ওই নারীর সাথে অফিসে ইন্সুরেন্সের লেনদেনের বিষয় নিয়ে প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে। এছাড়াও বীমা কর্মী নারীকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ভয়তীতিসহ হুমকি ধমকি দেয়। 
অভিযোগে আরও প্রকাশ, ১ জুন বিকাল ৩ টার সময় আবদু জব্বার বীমা কর্মীর অনুপস্থতিতে তার বসত বাড়িতে এসে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। 
পরবর্তী সময়ে ফোন করে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে জব্বার তার উপর ক্ষীপ্ত হয়ে গালমন্দ ছাড়াও হুমকি ধমকি দেয় এবং তাকে যে কোন সময় দেখে নিবে বলে শাসিয়ে দেয়। 
বীমা কর্মী ছমুদা বেগম জানান, আবদু জব্বার আমাকে যে কোন সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তার হুমকি ধমকিতে খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। 
তিনি আরও জানান, উক্ত আবদু জব্বার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ফেইজসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট মানহানকর কথা লিখে অপপ্রচার চালাচ্ছে । ঘটনার বিষয়ে আমি আমার অফিসের উর্ধতন কর্তপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে টেকনাফ থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার ভুগছি।

এদিকে, বাংলাদেশ মমফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) টেকনাফ শাখা কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, সদস্য সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ, অশালীন আচরণ,ভয়ভীতি ও হুমকির ঘটনা ঘটিয়েছে এই ইয়াবা কারবারী আবদু জব্বারসহ তার লালিত সন্ত্রাসীরা। এঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মমফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটি। গত বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বিএমএসএফ প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর,সভাপতি সোহেল আহমেদ ও সম্পাদক শিবলী সাদিক খান টেকনাফের শীর্ষ মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত আব্দুল জাব্বার ও তার দোসরদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। 
টেকনাফ বিএমএসএফ কার্যালয়ে হামলার ঘটনার কারণ ও হামলার সাথে কোন সাংবাদিকের ঈন্ধন ছিল কিনা তা উদঘাটনের জন্য কক্সবাজার জেলা শাখার সম্পাদক মো: শহিদুল্লাহকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। 
বিএমএসএফের টেকনাফ শাখা থেকে জানানো হয়েছে ছমুদা আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায়ী জব্বার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিকৃত তথ্য ও ছবি দিয়ে ভাইরাল করেন। ওই নারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়ে পত্রিকায় প্রতিবাদ দিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেকনাফ বিএমএসএফ কার্যালয়ে আসেন। খবর পেয়ে ওই ইয়াবা ব্যবসায়ী তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে টেকনাফ উপজেলা বিএমএসএফ এর অফিসে এসে সাংবাদিক মিজানুর রহমানসহ কর্মরত সাংবাদিকদের অকথ‍্য ভাষায় গালাগালি,অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও সাংবাদিক কার্যালয় বন্ধ করে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনাটি পুলিশকে জানালে তাৎক্ষনিক টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এঘটনায় টেকনাফ সহ পুরো জেলায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে সাংবাদিক মিজানুর রহমানসহ অন্যান্যরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে এই ইয়াবা কারবারী জব্বারসহ তার সহযোগীদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার দাবী করেন।