ঈদেও নিরব সিলেটে কামারপট্টি

ঈদেও নিরব সিলেটে কামারপট্টি
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। 17 জুলাই, শনিবার।। পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড় আর লোহার টুং-টাং আওয়াজ ও হাপরে আগুনে পুড়ে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। অনেকেই পুরাতন যন্ত্রপাতিগুলোকে দিচ্ছেন শান। ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে প্রতিবছর সিলেট নগরীর কামারশালাগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেলেও এবার ঠিক বিপরীত।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টুংটাং শব্দের ব্যস্ততা এখন অনেকটাই কম। তুলনামুলক অলস সময় পাড় করছেন সিলেটের কামাররা। সিলেট নগরীর পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায়ও একই অবস্থা বলে জানা যায়।
জানা যায়, ঈদুল আজহাকে ঘিরে সিলেটে কামারদের হাতিয়ার বানানোর আয়োজন শুরু হয় ঈদের একমাস আগে থেকেই। আর কেনাবেচা চলে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত। এ সময় কামারশালার পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যায় লোহার টুং-টাং শব্দ। লোহাকে আগুনে লাল করে আর তাতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে কুরবানির পশু জবাইয়ের হাতিয়ার তৈরিতে ব্যস্ত দেখা যায় কামারদের।
কিন্তু ভয়াবহ করোনাভাইরাসে থমকে গেছে এবারের চিত্র। কুরবানির ঈদ আসতে বাকি রয়েছে মাত্র কয়েকদিন। তবে এ বছর কামারদের আগেরমত ব্যস্ততা নেই। আগেরমত নেই গরম লোহা পেটানোর শব্দ, নেই হাপরের বাতাসের শব্দ। নগরীর বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, কামারশালাগুলোতে কাজের ব্যস্ততা তেমন একটা নেই। কামারশালার সামনে এক সময় যেখানে বোঝাই করে পসরা সাজানো থাকত ছুরি, দা, বঁটি, চাপাতিসহ নানাবিধ ধাতব হাতিয়ার। সেখানে দেখা গেছে হাতেগোনা কয়েকটি বঁটি আর দা।
কর্মকার রিপন মালাকার জানান, বর্তমানে কাজের চাপ তুলনামূলক কম। সারাবছর অর্থ কষ্টে গেলেও আশা থাকে ঈদে ভালো আয় উপার্জন হবে। কিন্ত গত বছর থেকে অর্থকষ্টে দিনানিপাত করছেন বলে তিনি জানান। একই কথা জানান আরেক কর্মকার কান্ত মালাকার। কর্মকার লিটন মালাকার বলেন, কাজ-কাম তেমন নেই। পরিবারের ১১জন সদস্য নিয়ে বিপাকে রয়েছি।
আলাপকালে কর্মকার ভূষণ বলেন, সারা বছর অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। কর্মকারদের তৈরি জিনিসের চাহিদা এখন আর আগের মতো নেই। শুধুমাত্র কোরবানির ঈদ এলেই কামারপাড়ায় ভিড় আর কর্মব্যস্থতা বাড়ে। কিন্তু গত বছর থেকে স্রোতের বিপরীতে সংগ্রাম করে বাপ-দাদার পেশাকে আঁকড়ে ধরে কোনো রকম বেঁচে আছেন বলে তিনি জানান।