উখিয়ায় ইউপি সদস্যের মুক্তির দাবিতে সর্বদলীয় হাজারো জনতা রাস্তায় : লাগাতার কর্মসূচির হুমকি

উখিয়ায় ইউপি সদস্যের মুক্তির দাবিতে সর্বদলীয় হাজারো জনতা রাস্তায় : লাগাতার কর্মসূচির হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১৬ এপ্রিল।। কক্সবাজারে উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পদক এম মনজুর আলম কারান্তরিণ রয়েছেন। একজন এনজিও কর্মীকে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠান। তার বিরুদ্ধে দায়ের মামলাটি ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক দাবি করে তার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে সর্বস্তরের হাজারো মানুষ। মনজুর আলমকে মুক্তি দেয়া না হলে আগামীতে দোকানপাট বন্ধ ও লাগাতার কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং সর্বদলীয় জনসাধারন।

তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছেন স্থানীয়রা। এর অংশ হিসেবে  উখিয়া মরিচ্যা বাজার স্টেশনে মানবন্ধনে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেয়।
মনজুর আলম মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। তাই তিনি বিএনপির নেতা হলেও তার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও।
তারা বলছে, মরিচ্যার ব্যবসায়ীক স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে দলীয় পরিচয় কখনো সামনে আনা হয়না। মনজুর আলম সভাপতি হিসেবে ব্যবসায়ীদের দুঃসময়ে সামনে থেকে প্রতিবাদ করে থাকেন। মনজুর আলমের মুক্তির দাবিতে মানবন্ধনে অংশ নিয়ে তার মুক্তির দাবি করেছেন, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নজির আহমদ, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি জয়নাল উদ্দিন বাবুল, উখিয়া বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি মিলন বড়ুয়া, হলদিয়াপালং ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ডন, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল্লাহ সিকদার, মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজীর সওদাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক মৌলবী আবুল হোসাইন , যুবনেতা সোহেল রানা, শেখ জামাল, শেখ কামাল, হেলাল উদ্দিন,সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।
মেম্বার মনজুর আলমের বড় ভাই কুয়েত প্রবাসী মোজাফর আহমদ দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে আমার ভাইয়ের প্রতিপক্ষ গ্রুপ, একটি প্রভাবশালী মহল হীন উদ্দেশ্যে ওই লোভী মহিলাকে ব্যবহার করে আমার ভাই ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানহানি করার কুমানসে পরিকল্পিত ভাবে ওই ধর্ষণ মামলা দায়ের করিয়েছে। যার সাথে আমার ভাই ও আমাদের পরিবারের দূরতম সম্পর্কও নাই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে মিথ্যা মামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহবান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, উখিয়ার এনজিওতে কর্মরত এক নারী ভ্রুণ হত্যা  ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে মনজুর মেম্বার ও তার বাবা শামশুল আলমের বিরুদ্ধে ‘ধর্ষণ’ মামলা দায়ের করেছেন। গত ২০ জানুয়ারি উখিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। মামলা নথিভুক্ত হবার খবর পেয়ে মেম্বার মনজুর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আদালতের নির্দেশে গত মঙ্গলবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। টানা দুইবার মেম্বার নির্বাচিত হওয়া ও পরিচিত ব্যবসায়ী হিসেবে অতীতে নারী ঘটিত কোন স্ক্যান্ডাল না থাকায় অপরিচিত নারীর দায়ের করা মামলাটি সাজানো দাবি করে আসছে মনজুর আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা।