উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুরের দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল

উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুরের দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ করেসপনডেন্ট।। দীর্ঘ নির্মাণযজ্ঞ শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত দ্বিতল ভবনের দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল নজর কাড়ছে সবার। শেষ মুহূর্তে ভবনের অসমাপ্ত কাজগুলো চলছে দ্রুতগতিতে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনার উদ্বোধন হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

জানা গেছে, ১৯৮১ সালে রংপুর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় এই বাস টার্মিনালটি নির্মিত হয়। এতে অর্থায়ন করেছিল রাজশাহী বিভাগ উন্নয়ন কমিটি। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও রংপুর জেলার এই বাস টার্মিনালটিতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন হয়নি। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদাজল আর খানাখন্দে ভরা টার্মিনালটি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জন্য ছিল চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কারণ। তখন যাত্রী উঠা-নামা ছিল কঠিন। বাধ্য হয়ে সড়ক দখল রাখত পরিবহনগুলো। দীর্ঘ সময় পর সেসব অসুবিধা দূর করতে ২০১৮ সালে শুরু হয় আধুনিক কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ। এখন দৃশ্যমান দৃষ্টিনন্দন এই টার্মিনালে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন যাত্রী সাধারণসহ পরিবহনখাত সংশ্লিষ্ট সবাই।

রসিকের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, জাইকা ও জিওবির অর্থায়নে ২৫ কোটি ৮১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শুরু হলেও শেষ হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর সর্বাধুনিক রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২৯ হাজার ৬৪৫ বর্গফুট আয়তনের দ্বিতল নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মূল ভবনে থাকছে ওয়ার্কশপ, ড্রাইভার ও কন্ডাক্টর রিফ্রেশমেন্ট এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা।

এছাড়া নিচ তলায় ১৪টি টিকিট কাউন্টার, তিনটি এটিএম বুথ, নারীদের নামাজ ঘর, একটি ডে-কেয়ার সেন্টার, ছয়টি খাবারের দোকান, একটি ওষুধের দোকান, দুটি পাবলিক টয়লেট, যাত্রীদের বসার স্থান এবং একটি লাগেজ এরিয়া। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় থাকছে একটি অত্যাধুনিক মানসম্মত খাবার হোটেল, শিশুদের খেলার রুম, সাতটি দোকান, অত্যাধুনিক ট্রাফিক বিভাগ, কন্ট্রোল রুম, টেকনিক্যাল বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ, অত্যাধুনিক সভাকক্ষ, একটি পাবলিক টয়লেট, ভিআইপি লাউঞ্জ ও ভিআইপি রুম।

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় সব জেলাতে গাড়ি চলাচলা করে থাকে। সেইসঙ্গে টার্মিনালটি উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বৃহৎ বাস টার্মিনাল হিসেবেও পরিচিত। মহাসড়ক ঘেঁষে নির্মিত এই টার্মিনালটি এখন যেমন সবার নজর কাড়ছে, তেমনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন যানজটসহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে আসছে বলে দাবি সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালক-শ্রমিকদের।

মাওলানা কেরামত আলী পরিবহনের কন্ডাক্টর শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আগে তো অনেক সমস্যা ছিল। এখন সেই হিসেবে কোনো সমস্যাই থাকল না। বিশেষ করে এত সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাস টার্মিনাল রংপুরের মানুষের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন। নবনির্মিত সর্বাধুনিক এই বাস টার্মিনাল নির্মাণের ফলে এখন মহাসড়কে যানজট নিরসন হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও বাড়বে।

বাসচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি ছিল অগোছালো এবং অল্প জায়গা নিয়ে। বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। গাড়ি রাখার সমস্যার নিরসন করা হয়েছে। পাশাপাশি খানা-খন্দ না থাকায় টার্মিনাল এলাকায় কাঁদা-পানি জমে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

টিকিট মাস্টার মিন্টু মিয়া বলেন, বাসের টিকিট কাটতে এসে আগে যাত্রী সাধারণকে অনেক কষ্ট করতে হতো। দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল না। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলে ভিজতে হতো। কোথাও বসার মতো জায়গা ছিল না। কিন্তু এখন থাকা-খাওয়া-বিশ্রাম, এমনকি প্রস্রাব-পায়খানা করতেও কোনো অসুবিধা হবে না। এখন আধুনিক এ টার্মিনালে কাউকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না। এখন এই টার্মিনালের সব কিছু পরিকল্পিত ও গোছানো।

রংপুর থেকে দিনাজপুরগামী যাত্রী রেজাউল করিম বলেন, অনেক দিন পর রংপুরে এসেছি। আগে তো এই বাস টার্মিনালে দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল। খুব অগোছা এবং নোংরা একটা পরিবেশ ছিল। কিন্তু এখনকার অবকাঠামো