উপ-নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট জাতীয় পার্টিতে অস্থিরতা দো'টানায় দলীয় নেতাকর্মীরা

উপ-নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট জাতীয় পার্টিতে অস্থিরতা দো'টানায় দলীয় নেতাকর্মীরা
ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিবেদক ।। 01 মে, মংগলবার।।  সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে জাতীয় পার্টির মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কেউ প্রার্থী ঘোষণা করে, আবার কেউ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। দলীয় নেতৃবৃন্দের এ অস্থিরতায় সাধারণ নেতাকর্মীরা দু’টানায় পড়েছে। যদিও জাতীয় পার্টির কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যন্ত এভাবে হয়েই থাকে। তবে বর্তমান সময়ে সিলেটে জাপার এ কার্যক্রম গোটা বিভাগ জুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই জাপার এমন কান্ড আর ষড়যন্ত্রে আওয়ামী মনোনয়ন প্রত্যাশীরা খুব খুশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেমন একজন জানান, নির্বাচনে বিএনপি নাই। জাপায় শুরু হয়েছে কামড়া-কামড়ি। এ অবস্থায় এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার কান্ডারি যিনিই হোন না কেন, পথ তার একদম সুগমই হবে। তবে তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় পার্টির  ভাঙাগড়ার খেলা শুরু হওয়ায় অন্তত গুটিকয়েক তৃণমুল নেতাকর্মী ব্যানার ফেষ্টুন টাঙ্েিয় এবং কর্মীসভায় যোগদান করে আর্থিক ভাবে কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। সাধারণ কর্মীদের মতে অন্তত নির্বাচনের আওয়াজ আসলে জাতীয়পার্টির কিছু নেতাকর্মীর পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। নতুবা বছরের পর বছর আলো দিয়েও তাদের খোজে পাওয়া যায় না। সুযোগ সন্ধানী কিংবা শীতের পাখি যাই হোক, জাতীয় পার্টি সব সময় তাদেরকে রহস্যজনক কারনে মূল্যায়ন করে। সেখানে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কোন মূল নেই। 
সিলেটে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে প্রার্থী ঘোষণার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো, আবার তা অস্বীকার, নিজেদের এমন এখতিয়ার বা ক্ষমতা নেই বলে ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার, আবার প্রার্থী ঘোষণাকারীদের ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে আখ্যায়িত করে জেলা জাপার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো এবং তৃণমূল জাতীয় পার্টির বক্তব্য- সবমিলিয়ে তফসিলের আগেই প্রার্থী নিয়ে জাতীয় পার্টিতে পাহাড়সম সমস্যা দেখছেন সচেতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
এই প্রশ্ন আর তর্ক-বিতর্কের উৎস গত ২৫ মে নগরীর নাইওরপুলস্থ একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে কেন্দ্রীয় ও জেলা জাতীয় পার্টির মোট ৭ জন নেতার একটি বৈঠক এবং পরবর্তীতে প্রার্থী ঘোষণা সংক্রান্ত একটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। সেই বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট-৩ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুলকে লাঙল প্রতীকে ভোট দেয়ার আহŸান জানানো হয়। তারা বাবুলকেই পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেন।
সেদিনের সেই সভায় সভাপতি ছিলেন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন। পরিচালনা করেন সিলেট জেলা জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহীদ লস্কর বশির। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা মো. আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহŸায়ক আব্দুল মালিক খান, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। এ সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে। প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেন জেলা এবং তৃণমূল জাতীয় পাটির নেতৃবৃন্দ। এক পর্যায়ে জেলা জাতীয় পার্টি বিবৃতি দিয়ে জানায়, যারা সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রার্থী ঘোষণা করেছেন তারা ষড়যন্ত্রকারী। তাদের তেমন এখতিয়ার নেই। এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
এদিকে তৃণমূল জাতীয় পার্টির দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ শাখাও অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য পরিস্কার। কেন্দ্রীয় নির্বাচন বোর্ড যাকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করবে তারা তাদের সাথেই থাকবেন।
প্রতিবাদের মুখে প্রার্থী ঘোষণাকারীরা পিছু হটেন। বলেন, সেদিন তেমন কিছুই সেখানে হয়নি। তারা প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেন না। সেই এখতিয়ার তাদের নেই। তাহলে প্রেসরিলিজ এলো কোথা থেকে? এই প্রশ্নেরও কোন সঠিক উত্তর তাদের কাছে নেই। যা সাধারণ নেতাকর্মীদের র্মমাহত করেছে।
অথচ জাপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদের নামে প্রেসরিলিজ পাঠানো হয়েছে গণমাধ্যমে। তারা প্রার্থী ঘোষণা করেন নি- বিষয়টি পরিস্কার করতে তিনিও এতদিন কোন বিবৃতিও দেন নি। দিয়েছেন রোববার রাতে তিনি গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ২৫ তারিখের প্রেসরিলিজ তার পাঠানো নয় বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের মুখে তিনি জানান, আমার নামে কে বা কারা পাঠিয়েছে আমি তা জানিনা। একই বক্তব্য পার্টি চেয়ারম্যানের দুই উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন ও আব্দুল্লাহ সিদ্দিকীর।
এদিকে প্রার্থী ঘোষণার বিষয় অস্বীকার করে কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিবে তেমন কথা বললেও প্রায় প্রতিদিনই জাপার এই নেতৃবৃন্দ বাবুলকে নিয়ে সিলেট-৩ আসনের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। লাঙলের আড়ালে সরাসরি একজন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে নিয়ে তফসিল ঘোষণার আগেই তাদের এমন প্রচরণাকে সরাসরি পক্ষপাত বলেও মনে করছেন জাপা নেতাকর্মীরা।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জাপার একজন নেতা বলেন, পার্টিতে নানা খেলা চলে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান খেলা হচ্ছে টাকার খেলা। এবার যা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে সেই খেলাটা শুরু হয়ে গেছে। তিনি পার্টিকে রক্ষায় এমন নোংরা খেলা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি উদাত্ত আহŸান জানান।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এ ব্যাপারে আলাপকালে জানান, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে কারো প্রার্থী ঘোষণার এখতিয়ার নেই। জাতীয় পার্টি সব সময় তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দেয়। এখানে বিভক্তির কোন স্থান নেই।