উলিপুরে প্রণোদনার অর্থ সিন্ডিকেট চক্রের পকেটে

উলিপুরে প্রণোদনার অর্থ সিন্ডিকেট চক্রের পকেটে
ছবিঃ সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।। ২৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার।। কুড়িগ্রামের উলিপুরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের এককালীন প্রণোদনার টাকা বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। এই চক্রটি সরকারের উন্নয়ন ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও প্রতিকার না পেয়ে হতাশ তালিকাভুক্তরা। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার সিংহভাগ টাকা ঢুকছে এখন প্রতারক চক্রের পকেটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের এককালীন প্রণোদনার তালিকা তৈরির দায়িত্ব পান সাহেবের আলগা ইউনিয়নের টিকা প্রদানকারী (ভ্যাক্সিনেটর) রিপন মোল্লা। তিনি ওই ইউনিয়নে ১৫৩ জন সুবিধাভোগীর নামের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। এ সুযোগে প্রণোদনার টাকা বিকাশে দেয়ার কথা বলে কৌশলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নতুন সিম কিনে নেন রিপন। পরে এসব সিম তার কাছে রেখে দেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে এসব সুবিধাভোগির উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে টাকা আসলে রিপন মোল্লা ক্যাশ আউট করে তাদের প্রত্যেককে ৫ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দেন। এতে করে সুবিধাভোগীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বেশ কয়েকজন সুবিধাভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

চলতি বছর উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ মোট ২ হাজার ৬৩০ জন খামারীর তালিকা অ্যাপসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে বরাদ্দ ধরা হয় ২ কোটি ৭৯ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৫ টাকা। এই তালিকা তৈরি করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মনোনীত সিন্ডিকেট চক্র। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ক্যাটাগরির মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৫০০ প্রণোদনার টাকা বরাদ্দ পান।

অভিযোগকারী শাহিনুর মোল্লা, আবু সাঈদ, ছিদ্দিক, সাহেরা বেগম জানান, রিপন মোল্লা সুবিধাভোগীদের প্রণোদনার কারো অর্ধেক, আবার কারো পুরো টাকা টাকা হাতিয়ে নেন। এসব টাকা অফিসের স্যারদের দিতে হবে বলে জানান। কেউ টাকা না দিলে পরবর্তীতে তাদের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে না জানিয়ে নানান ভয়ভীতি দেখান।

অভিযোগের বিষয়ে টিকা প্রদানকারী (ভ্যাক্সিনেটর) রিপন মোল্লা জানান, আমি শুধু ১৫৩ জনের তালিকা করে অফিসে পাঠিয়েছি। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা। ওটা অফিস জানে। তবে নতুন সিম হস্তগত করে টাকা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, রিপন মোল্লার কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে, কিন্ত তিনি অস্বীকার করেছেন। আমাদের লোক গিয়ে ওইসব সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বিষয়টি নিয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।