একাধিক নারীর সাথে সম্পর্কে বাধা দেয়ায় ডা. স্ত্রীকে হত্যা করে রেজাউল

একাধিক নারীর সাথে সম্পর্কে বাধা দেয়ায় ডা. স্ত্রীকে হত্যা করে রেজাউল
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রেম করে বিয়ে করেও একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায় স্বামী রেজাউল করিম। এ নিয়ে প্রায় সময় স্বামী স্ত্রী উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য লেগেই থাকতো। ২০১৯ সালে তাদের একে অপরের সাথে ফেইজবুকে পরিচয় ঘটে। এর পর ২০২০ সালেই পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। তবে রেজাউল করিম বিয়ের পরেও একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাবার কারনে জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকাকে বাধা মনে করেই তাকে হত্যা করে বলে জানা যায়। 

এ বিষয়ে রাজধানীর র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানায়, চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকাকে (২৭) হত্যার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরেই ব্যাগে ধারালো অস্ত্র বহন করছিলেন রেজাউল। ১২ আগস্ট ঘটা করে জান্নাতুল নাঈমের জন্মদিন পালনের কথা বলে ১০ আগস্ট তাকে পান্থপথের ফ্যামিলি অ্যাপার্টমেন্ট নামের একটি আবাসিক হোটেল নিয়ে যান। সেখানে কথা কাটাকাটি, বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির এক পর‌্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর গোসল করে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে চট্টগ্রাম চলে যান রেজাউল।

নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে চট্টগ্রামের মুরাদপুরের একটি ছাত্রাবাস থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারকালে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডের সময় রেজার পরিহিত রক্তমাখা গেঞ্জি, মোবাইল ও ব্যবহৃত ব্যাগ এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার রেজা হত্যায় নিজের সংশ্লিষ্টতার দায় স্বীকার করেছেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামক আবাসিক হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন ছিল। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ১০।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রেজাউল ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। এমবিএ চলাকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের জুন মাসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগদান করেন।

নিহত নারীর সঙ্গে পরিচয় প্রেম ও হত্যা সম্পর্কে আসামি রেজা র‌্যাবকে জানান, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার সঙ্গে পরিচয়। এরপর প্রেমের সম্পর্ক। ২০২০ সালের অক্টোবরে বিয়ে করেন তারা। পরিবারের অগোচরে বিয়ে হওয়ায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতেন।

এর মধ্যে রেজার একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেম ছিল। তা স্ত্রী জেনে যাওয়ায় মনোমালিন্য ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে জান্নাতুল নাঈম স্বামী রেজাকে কাউন্সেলিং ও আলাপচারিতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

বিভিন্ন সময় বাগবিতণ্ডার মধ্যে স্ত্রীকে প্রতিবন্ধক ভাবতে শুরু করেন রেজাউল। স্ত্রীকে চিরজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ কয়েকদিন ধরেই স্ত্রীকে হত্যার জন্য কাঁধের ব্যাগে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরছিলেন।

গত ১০ আগস্ট চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমকে জন্মদিন উদযাপনের কথা বলে পান্থপথের ওই আবাসিক হোটেল নিয়ে যান। সেখানেও তাদের বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটি, বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

এসময় রেজা তার ব্যাগ থেকে ধারালো ছুরি বের করে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর রক্তমাখা কাপড় পরিবর্তন করে গোসল করে মোবাইল ফোনও সঙ্গে নিয়ে হোটেলের দরজার বাইরে থেকে বন্ধ করে বেরিয়ে যান।

জিজ্ঞাসাবাদে রেজা আরও জানান, হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে মালিবাগে তার বাসায় যান। বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে একটি হাসপাতালে গিয়ে তার নিজের হাতের ক্ষত স্থান সেলাই করান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে চট্টগ্রামে গিয়ে মুরাদপুরে আত্মগোপন করেন। তিনি কীভাবে এ থেকে বাঁচতে পারেন তা নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগও করেন। এর মধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হন তিনি।