ওষুধ কিনতে গিয়ে অপহরণের শিকার ৯ম শ্রেণির ছাত্রীঃ তিনদিনেও উদ্ধার হয়নি

ওষুধ কিনতে গিয়ে অপহরণের শিকার ৯ম শ্রেণির ছাত্রীঃ তিনদিনেও উদ্ধার হয়নি
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের।। স্টাফ রিপোর্টার।।১৮ এপ্রিল, রবিবার।।  ওষুধ কিনতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়েছে গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানীপাড়ার শাহীন মিয়ার অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্কুল পড়ুয়া মেয়ে উম্মে হাবিবা সিয়ামনি (১৬)। সে স্থানীয় স্বাধীনতা রজত জয়ন্তী বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। এব্যাপারে সদর থানায় জিডি করার তিনদিন পরও ওই ছাত্রীটি উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় তাকে সুস্থ শরীরে উদ্ধার এবং অপহরণকারী ও তাদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে পরিবারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অপহৃত সিয়ামনির দুলাভাই শহরের ফকিরপাড়ার মো. আল আমিন লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তার বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীটি লেখাপড়া করতো। গত ১৫ এপ্রিল রাত ৮টায় সিয়ামনি জেলা সদর হাসপাতালের সামনে ওষুধের দোকানে ওষুধ কিনতে যায়। এসময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা পলাশবাড়ি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের জামালপুর গ্রামের শাহানুর মিয়ার পুত্র মেহেদী হাসান সিয়াম ও হরিণমারির রঞ্জু নেংটার পুত্র অপূর্ব মিয়া এবং সিয়ামের মামা গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালির বালুয়া এলাকার বুলবুল আহমেদ ও একই এলাকার আশরাফুল ইসলামের পুত্র আবির হোসেন মোটর সাইকেলে করে গাইবান্ধায় এসে ডিবি রোড ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথমে সিয়ামনির পরিবার অপহরণের বিষয়টি বুঝতে না পেরে তার নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে ১৫ এপ্রিল রাতেই সদর থানায় একটি জিডি (নং ৭৯৮) করে। পরে তারা জানতে পারে সিয়ামনিকে অপহরণ করা হয়েছে। পরদিন ১৬ এপ্রিল সকালে সিয়ামনি তার বড় বোন সুইটি আকতারের পলাশবাড়ির বাসায় বুলবুল আহমেদ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। সিয়ামনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে কৌশলে প্রস্তাবদাতা ওই বুলবুলকে গাইবান্ধা নিয়ে এসে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। অথচ ওই রাতেই বুলবুলকে আটক করে ছাত্রীকে কে উদ্বার না করে সহকারি পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) এর নির্দেশে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। পলাশবাড়ি পৌরসভার মেয়র গোলাম সারওয়ার বিপ্লব অপহরণকারি সিয়ামের ফুফাত ভাই হওয়ায় তার শরণাপন্ন হলে তিনি সিয়ামনিকে উদ্ধারের আশ্বাস দেন। কিন্তু' দুইদিন পর তিনি অপহৃত কে উদ্ধার না করে তাদেরকে এ ব্যপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অপহৃতা সিয়ামনির মা মিনা বেগম, বড় বোন সুইটি বেগম, মেজো বোন সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাসলিমা সুলতানা স্মৃতি, তার বড় মা আয়শা বেগম, প্রতিবেশী আরিফ হোসেন, শাহরিয়ার নাজিম প্রমুখ।