কাউখালিতে কিশোর গ্যাং এর হামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গুরুতর আহত

কাউখালিতে কিশোর গ্যাং এর হামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গুরুতর আহত
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর প্রতিনিধি।। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে কিশোর  গ্যাঙের হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান সেতু।

পিরোজপুর জেলার কাউখালিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কিশোর গ্যাঙের হামলার শিকার হয়েছে পরাজিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা সাবেক ছাত্রলীগের উপ আইন বিষয়ক সম্পাদক। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা প্রশাসনের প্রশাসক নির্বাচিত হলেও সদস্য পদে প্রবল  প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিরাজ করছিল কাউখালিতে। এই উপজেলার দুই জন প্রার্থী ছিল মোঃ মুহিদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম সুমন। রফিকুল ইসলাম সুমন শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের নিবাসী হলেও শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শিকদার মোঃ দেলোয়ার এর ছোটো ভাই লতিফ শিকদার সুমনের বিপক্ষে কাজ করছিলো। অন্যদিকে  সুমনের পক্ষে কাজ করছিলো তার বন্ধু সাবেক জেলা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেতু। নির্বাচনে রফিকুল ইসলাম সুমন চার ভোটের ব্যবধানে হেরে যায়।

১৭ অক্টোবর (সোমবার) নির্বাচন শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় রাড়ির হাট সংলগ্ন স্থানে মেহেদী হাসান সেতুর উপর লিয়ন শেখ, পিতা- ফিরোজ শেখ, উসমান শিকদার, পিতা -মৃত বারেক শিকদার, শরিফুল, পিতা মোঃ মজনু খান সহ আরো অজ্ঞাত ১০-১৫ জন কিশোর গ্যাঙের সদস্য অতর্কিত হামলা চালায়। 

জানা যায়, হামলাকারীরা স্থানীয় কিশোর গ্যাং এর চক্রবদ্ধ গ্রুপ। এই গ্যাঙটি বিভিন্নরকম অপকর্ম করে আসছে। ২০২০ সালে এই গ্যাঙটির সদস্যরা ফলইবুনিয়ার ইব্রাহীম শিকদারের একটি দোকান দখল করে সেচ্ছাসেবক লীগের সাইন বোর্ড টানিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক চাপে সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেললেও ঘরটি এখনো দখল করে রেখেছে তারা। 

স্থানীয় সুত্রে আরো জানা যায়, কিশোর গ্যাঙের শেল্টার দাতা শিয়ালকাঠী ইউ পি চেয়ারম্যানের ছোটো ভাই লতিফ শিকদার একসময় জেলা যুবদলের সদস্য ছিল। পরবর্তীতে থানা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ লাভ করে কাউখালির বিশেষ কয়েকজন নেতার অনুগ্রহে। দলীয় সদস্যপদ পেয়ে দলবদল করে লতিফের অপকর্ম আরও বেড়ে যায়। সে বিনা টেন্ডারে জেলা পরিষদের  ৯ টি তাল গাছ কেটে ফেললেও প্রশাসন এ ব্যাপারে চুপ রয়েছে কোনো এক অজানা কারণে। 

হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী মেহেদি হাসান সেতু জানায়,  পিরোজপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, আমি নির্বাচন শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় অতর্কিতে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা আমার উপরে হামলা চালায়। হামলা কারীদের অনেকেই মাস্ক পরে ছিলো। মাস্ক ব্যতীত থাকায় লিয়ন সেখ, উসমান শিকদার ও শরিফুলকে চিনতে পারি। আমি মারাত্মক ভাবে আহত হলে আমাকে আমার বাবা এবং ভাগ্নে সহ কয়েকজনে মিলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে। এ বিষয়ে আমার থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। থানা থেকে গত কাল ফোর্স এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গিয়েছে। 

ঘটনার বিষয়ে জানতে কাউখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিসিয়াল মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।