কক্সবাজারের কুতুবদিয়া লেমশীখালীতে নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া লেমশীখালীতে নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১৬ সেপ্টেম্বর।। কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননাসহ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিদ্বন্ধি এক প্রার্থীর কর্মি-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কুতুবদিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের হাবিব হাজীর পাড়া তিন রাস্তা মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠিত ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে আওয়ামী লীগের মনোনীত লেমশীখালী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা’র ৭, ৮ ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের নির্বাচনী সমন্বয়কারি জয়নাল আবেদীন সুনু বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩০ জনকে আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এতে প্রধান আসামী করা হয়েছে, লেমশীখালী ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার হোছাইন (৬০)। গতবারের ইউপি নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আকতার হোছাইন লেমশীখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পলন করছেন।
অন্য আসামীরা হলেন, ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোছাইনের ভাই জাকের হোছাইন (৫৫), কর্মি-সমর্থক হুমায়ুন কবির (৪৫), সাইফুদ্দিন মানিক (২৫), দিদারুল হক (৪২), খোরশেদ আলম (৪৪), মাহমুদুল করিম (৪০), দিলদার আলম (৩৫), মোহাম্মদ আলমগীর ওরফে আলমগীর ডাকাত (৪০), মোহাম্মদ শাহজাহান (৪৫), মোহাম্মদ হাছান ওরফে মাস্টার হাছান (৪০), আবুল বশর (৪২)। এতে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে আরো ৩০ জনকে।
কুতুবদিয়া থানায় দায়ের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার হোছাইনের কর্মি-সমর্থকরা এলাকায় আচরণ বিধি লংঘন করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে তারা মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভাড়াও করেছে। এসব সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। এতে প্রতিদ্বন্ধি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম রেজার কর্মি-সমর্থকরা ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। গতবারের ইউপি নির্বাচনেও আকতার হোছাইনের কর্মি-সমর্থকরা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি জয়লাভ করেছিল। যেটার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রেখেছে।
বাদী জয়নাল আবেদীন সুনু বলেন, এবারের ইউপি নির্বাচনে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা’র নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন জয়নাল আবেদীন সুনু। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার জন্য তার উদ্যোগে লেমশীখালী ইউনিয়নের হাবিব হাজীর পাড়া তিন রাস্তার মাথা সংলগ্ন জনৈক শওকতের দোকানের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একটি কার্যালয় চালু করা হয়। কার্যালয়টিতে নির্বাচনী পোস্টার সাটানোর পাশাপাশি টাঙ্গানো হয় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।
বুধবার রাত ৯ টায় হাবিব হাজীর পাড়া রাস্তার মাথায় স্থাপিত ওই নির্বাচনী কার্যালয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম রেজার সমর্থনে পথসভা করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পথসভা শেষ হওয়ার পরপরই প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী আকতার হোছাইনের কর্মি-সমর্থকরা সশস্ত্র মহড়া শুরু করে। এতে এলাকায় প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থীর কর্মি-সমর্থকদের মাঝে ভিিত ছড়িয়ে পড়ে। 
জয়নাল আবেদীন সুনু বলেন, এক পর্যায়ে গভীর রাত ৩ টায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার হোছাইনের কর্মি-সমর্থকরা দা, ছুরি, লাঠি ও কেরোচিনসহ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নামিয়ে ভাংচুর চালায় এবং অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে অফিস ভাংচুর ও আগুন লাগার খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা রাতেই ঘটনাস্থত পরিদর্শন করেন। 
এ ঘটনার পর থেকে লেমশীখালীতে প্রতিদ্বন্ধি দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মি সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কুতুবদিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক নির্বাচনী সমন্বয়কারি বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।