কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী ড্রেজিংয়ের বালু নদীতে : ১৯ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ অনিশ্চিত 

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী ড্রেজিংয়ের বালু নদীতে : ১৯ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ অনিশ্চিত 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৪ জুলাই।। কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী ড্রেজিংয়ের বালু শেষ পর্যন্ত নদীতেই চলে গেছে।

বাঁকখালী নদী থেকে উত্তোলন করা বালু নদীর বুকে রেখেই চলছিল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী আশঙ্কা করছিল নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বালু নদীতেই চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর আশঙ্কা সত্যি হলো। গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় রামুর আতিক্কাবিবির ঘাট, হাইটুপি, ভুতপাড়া, গাউচ্ছাপাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদী থেকে উত্তোলন করা বালুর সিংহভাগ নদীতেই তলিয়ে গেছে। এমনকি নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় কারণে বালু তুলে আনা কঠিন হয়ে গেলে গত ৩ জুন থেকে কয়েক দফায় রামুর হাইটুপি ও ভুতপাড়া অংশে রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু পানিতে মিশিয়ে দিয়েছে স্বয়ং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার ৪শ হেক্টর জমি চাষাবাদে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।  
জানা যায়, বাঁকখালী নদীর বালু নদীতে রেখেই চলছে ড্রেজিং। রামু উপজেলার হাইটুপি, গাউচ্ছাপাড়া, রাজারকুল আতিক্কাবিবির ঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো চলছে অভিনব ড্রেজিং কার্যক্রম।
সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ যেনতেনভাবে চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।  
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রামু শাখার সভাপতি নাট্যজন মাস্টার মো. আলম বলেন, নদী থেকে বালু তুলে তা রাখা হয়েছে নদীর বুকেই।
আবার সেই বালু নিয়ে যাওয়ার জন্য নদীর তলদেশ ভরাট করে বানানো হয়েছে ট্রাক চলাচলের রাস্তা। এখন বর্ষা চলে এসেছে। এরমধ্যে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় সিংহভাগ বালু ফের নদী চলে যাচ্ছে।  
তবে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীর দাবি, নদীটির প্রায় সাড়ে ২৮ কিলোমিটার এর মধ্যে ২৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। গত জুন নাগাদ ড্রেজিং কাজ শেষ করার কথা ছিল। সহসাই বাকি কাজ শেষ হবে এবং এসব বালু সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে চলমান এ প্রকল্পের রামুর বিভিন্ন অংশে কাজ পরিদর্শন শেষে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)- এর নেতারা। 
‘নদী ড্রেজিং মানে, নদী থেকে বালু বা মাটিগুলো তুলে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হবে, আমরা এটাই বুঝি। কিন্তু বাঁকখালীর এই খনন কাজ দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি’, বলেন মাস্টার মো. আলম। 
তিনি আরও বলেন, দেখলাম, নদী থেকে বালু তুলে নদীতেই রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেই বালু নিয়ে যাওয়ার জন্য আবার উল্টো নদীর তলদেশ ভরাট করে রাস্তাও করা হয়েছে। কিন্তু যেভাবে ধীর গতিতে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, বর্ষার আগে এসব বালুর সিংহভাগ নদীতেই চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত তাই হলো।আমরা এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
নদীর বুকে বালু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড-এর কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. সরওয়ার নামের ব্যক্তি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, নদীর দুইপাশে জায়গা সংকটের কারণে বালু নদীর বুকে রাখা হয়েছে। আগামী একমাসের মধ্যে সব বালু তুলে নেওয়া হবে এবং পিকআপ চলাচলের জন্য ভরাট করা মাটিও তুলে ফেলা হবে। 
প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, হাইটুপি অংশে ৪০ মিটার ড্রেজিংয়ের কথা থাকলেও দুইপাশে জায়গা না থাকায় তা করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি বাঁকখালী নদীর ড্রেজিং প্রকল্প। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দুই উপজেলার (রামু ও কক্সবাজার সদর) ২১টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার ৪শ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।
এছাড়াও বন্যা থেকে রক্ষা পাবে রামু ও সদর উপজেলার ৩ লাখ মানুষ। পাশাপাশি নদী ভাঙনের হাত থেকে রেহাই পাবে অন্তত ২ হাজার পরিবার।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি বাঁকখালী নদীর ড্রেজিং প্রকল্প। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার ৪শ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আনার আশা ছিল।
সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ যেনতেনভাবে চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।  
২০১৬ সালে প্রায় ১৯৫ কোটি ৫৪৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প হাতে নেয় কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।