কক্সবাজার জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন : লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো উৎপাদন

কক্সবাজার জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন : লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো উৎপাদন
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২২ মে।। কক্সবাজার জেলায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় সরকার সার ও বীজে বিশেষ প্রনোদনা দিয়ে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. এখলাস উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ২২ মে পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে এবং মাঠে পড়ে থাকা অবশিষ্ট ধান দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলবে কৃষকরা।আগামিতে যেহেতু কাল বৈশাখী ঝড়ের আশংকা রয়েছে, সেহেতু কৃষকরা যাতে পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলে নিয়ে যায় এমন পরাম্পর্শ দিয়েছেন তিনি। 
মৌসুমের শুরুতে রাবার ড্যামের সমস্যার কারণে কক্সবাজার  সদর উপজেলা এলাকায় বোরো উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে কিছু কম হলেও সেটি মোট উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বেনা বলেও নিশ্চিত করেন ডিডি মোঃ এখলাছ উদ্দিন। 
এদিকে, বোরোর বাম্পার ফলনের কারনে কৃষকরা মহাখুশি। এই কর্মকর্তার দাবি কক্সবাজারে বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে খাদ্যে উদ্বৃত্ত থাকবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. এখলাছ উদ্দিনের তথ্যমতে, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বোরো ধানের উপজেলা ভিত্তিক জমি আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং অগ্রগতি নির্ধারণ করা হয়। 
জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৫৩ হাজার ৩শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বিপরীতে সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ১৩ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চাল। যেহেতু ৮৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে আরো ১৫ শতাংশ কাটা বাকি রয়েছে সে কারনে লক্ষ্যমাত্রা নিরুপন করতে কাটা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে যেভাবে মাঠে ফসল উৎপাদন ভালো হয়েছে সে কারনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। গত বছরের বোরো মৌসুমের চেয়ে এ বছর ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে। 
মৌসুমের শুরুতে কক্সবাজার  সদরের ২টি এবং রামুর ২টি ইউনিয়নের চাষিরা জমিতে ভালো ভাবে সেচ দিতে পারেনি। যার ফলে উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে নীট উৎপাদনে সার্বিকভাবে বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে,  চকরিয়া উপজেলায় ১৭ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে ৬৯ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন রোবো ধান উৎপাদন হয়েছে। এছাড়াও পেকুয়া উপজেলায় ৭ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে ৪৫ হাজার ৩শ ৭৫ মেট্রিক টন, রামু উপজেলার  ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ২৩ হাজার ৭শ ৮২  মেট্রিক টন,
কক্সবাজার সদর উপজেলার ৬ হাজার ৭শ হেক্টরে ২৬ হাজার ৫শ ৩০ মেট্রিক টন, উখিয়া উপজেলায় ৬ হাজার ৪৬০ হেক্টরে ২৫ হাজার ৮৪  মেট্রিক টন, টেকনাফ উপজেলায় ১ হাজার ১শ ১৫ হেক্টরে ৪ হাজার ২শ ৬৫ মেট্রিক টন,  মহেশখালী উপজেলায় ৭ হাজার ২৫ হেক্টরে ২৮ হাজার ৪শ ২ মেট্রিক টন এবং কুতুবদিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৬শ হেক্টরে ৬ হাজার ২২৮  মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। 
তথ্য মতে, জেলায় বোরো মৌসুমে ৩ জাতের ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১২৪২৪ হেক্টরে হাইব্রীড জাতের ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৪,১২৪ মেট্রিক টন, উফশী জাতের ৪১ হাজার ৩৬ হেক্টরে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২শ ৬৪ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাতের ৩৫৫ হেক্টরে ৭২০ মেঃ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। 
কক্সবাজারের ঈদগাঁও এর কৃষক মো. রহিম উল্লাহ বলেন, তিনি নিজের উদ্ভাবন করা রহিম ধান চাষ করেছেন, ফলনও বেশি হয়েছে। রহিম ধানে বাম্পার ফলনে নিজে অনেক খুশি।
কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন জানান, কৃষকরা নির্দেশনা মেনে এবছর চাষ করায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি জাত বিনা ২৮, ১৯, ব্রি-৭৪, ৬২, ৩৩, ৫৮ জাত খুবই ভাল ফলন হয়েছে। শুরুতে একটি মাত্র ইউনিয়ন পিএমখালীতে পানির জন্য সমস্যা হলেও পরে সেটা কেটে গিয়ে কৃষকরা ভালো উৎপাদন করেছে। প্রাকৃতিক কোন সমস্যা ছাড়াই এবার কৃষকরা বোরোতে বাম্পার উৎপাদন করেছে। ধানের দাম থাকায় কৃষকরাও সন্তুষ্ঠ।
তিনি বলেন, আমাদের পরাম্পর্শের বাইরে নিজ উদ্যোগে কৃষকরা স্থানিয় লাল ধান, হাইব্রিডের মধ্যে সুপার, হীরা, পান্না, ময়না জাত উৎপাদন করে চমকে দিয়েছে। বোরো ধানের বাম্পার উৎপাদনের ফলে কক্সবাজার জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে মনে করেন তিনি।