কক্সবাজার জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন জুয়েল

কক্সবাজার জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন জুয়েল
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১৬ এপ্রিল।। কক্সবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল আসন্ন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।

শনিবার ১৬ এপ্রিল বিকালে কক্সবাজার সাগরাড়ের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রার্থীতা ঘোষণা করেন তিনি। কায়সারুল হক জুয়েল বলেন, 
আমার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের একজন বটবৃক্ষ ছিলেন।
আমার বাবা একেএম মোজাম্মেল হক কোন দিন দখল, দুর্নীতি অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না। আমিও কখনো দখল দুর্নীতি ও অন্যায়ের সাথে নেই। 
এখন অনেকেই দলীয় পদপদবী ব্যবহার নানা অপকর্মে জড়িত আছে। সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে।
এসব অপকর্মকারীদের জবাব দিতে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীতা ঘোষণা করছি।
সাংবাদিক সম্মেলন, সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে কায়সারুল হক জুয়েল আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে কক্সবাজার আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক জেলায় রূপান্তরিত হয়। বাবা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর আমার বাবা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম স্নেহভাজন ন্যক্তি ছিলেন আমার বাবা মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। তিনি কক্সবাজারের সরকারী সফরে আসলে বাবাকে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে ডেকে নেন। সেখানে বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে তার দলে যোগদানের জন্য এবং মন্ত্রীত্বসহ বিভিন্ন উচ্চ পদে আসীন করার লোভ দেখান।
বাবা সেই লোভনীয় পদ প্রত্যাক্ষান করেন।
জুয়েল বলেন, চেয়ারম্যান থাকাকালীন বাবার প্রচেষ্টায় যুগোশ্লোভিয়ার একটি টিম কক্সবাজার শহরে সৌন্দর্য্য বর্ধনের সম্ভাব্যতা নিয়ে এরিয়েল সার্ভিস এর মাধ্যমে মাষ্টার প্ল্যান রচনা করেন। ১৯৭৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিখ্যাত হেভিওয়েট মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ক্লে ও তার পত্নী মিসেস ভেরুনিকা আলী কক্সবাজার সফর করেন এবং কক্সবাজারের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে বাবা তাদেরকে সংবর্ধনা জানান এবং তিনি গণসংবর্ধনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

আমার বাবা এ.কে.এম মোজাম্মেল হক একজন ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন এবং প্রখ্যাত ফুটবল টিমও গঠন করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাবা ১৯৮১-২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে আমৃত্যু কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 


অন্যান্যদের মধ্যে জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা চৌধুরী লুনা, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক খোরশেদ আলম, ডেইলি স্টার প্রতিনিধি মুহাম্মদ আলী জিন্নাত, কালের কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার তোফায়েল আহম্মেদ, দৈনিক ক সৈকত সম্পাদক মাহবুবুর রহমান,  দৈনিক দেশ বিদেশ সম্পাদক এড আয়ুবুল ইসলাম, ইনকিলাব প্রতিনিধি শামশুল আলম শারেক, রূপালী সৈকত সম্পাদক ফজলুল কাদের চৌধুরী, দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার এইচএম এরশাদ, দৈনিক বাকখালী সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, দ্য ডেইলি ট্রাইব্যুনাল ও দৈনিক অধিকার কক্সবাজার  প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, দৈনিক মানবজমিন স্টাফ রিপোর্ট রাসেল চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার শফি উল্লাহ  শফি, দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের কক্সবাজার প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল উপস্থিত সাংবাদিক,,শুভানুধ্যায়ী ও নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের এই আশ্বাস দিতে চাই, আমি যদি আপনাদের সহযোগীতা ও সমর্থনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই, কোনদিন দলকে বিক্রি করে খাব না, মনোনয়ন বাণিজ্য করব না, দখলবাজী করব না, কমিটি ও পদ বিক্রি করব না। অর্থাৎ দলের সুনাম নষ্ট হয় এমন কোন কাজে লিপ্ত হবো না। আমি আপনাদের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগীতা কামনা করছি। আপনারা চরম দুঃসময়ে আমার পিতাকে যেভাবে পেয়েছিলেন আমাকেও সেইভাবে পাবেন ইনশাল্লাহ ।