কক্সবাজারে দুইটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত-২

কক্সবাজারে দুইটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত-২
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৩১ মে।। কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরা সিকদার বাজারে দুইটি সন্ত্রাসী আশরাফ আলী ও রায়হান গ্রুপের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষে ২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আনজুমান নামের আরো ১ জন সন্ত্রাসী। 

এনিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সোমবার (৩১ মে) বিকেল ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী শাহেদুল হক (২২) মারা যান এবং হাসপাতালে নেয়ার পর গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী রায়হান (২৪) মারা যান। নিহত শাহেদুল হক কক্সবাজার শহরের টেকপড়ার জামে মসজিদ রোডের মুজিবুল হকের ছেলে ও নিহত রায়হান শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরা বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।
নিহত রায়হান ২০১৮ সালে বাঁচামিয়ার ঘোনায় নিহত মেধাবী কলেজছাত্র এএইচএম তানভীর হত্যা মামলার এজাহার ও চার্জশীটভূক্ত আসামি বলে জানা গেছে। নিহত ২ জনই সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সদস্য বলে জানা গেছে। নিহত দুই জনের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার আশরাফ আলী বাহিনীর সাথে রুমালিয়ারছড়া এলাকার রায়হান বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দু’জন মারা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে আরও ১ জন। এরমধ্যে রায়হান বাহিনীর সদস্য আঞ্জুমানও রয়েছে। আহত-নিহত তিনজনই রায়হান গ্রুপের। রায়হানের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা ও একটি অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে ডজনাধীক মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস জানিয়েছেন, আশরাফ আলী ও তারের গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদকের অবৈধ লেনদেনের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এই সংঘর্ষ হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা।
ওসি আরও জানান, লাশ দুইটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিহতদ্বয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান (পিপিএম) সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে যেকোন মূল্যে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।