কক্সবাজারে ধান ক্ষেত থেকে বন্য হাতির মরদেহ উদ্ধার : আটক ০১

কক্সবাজারে ধান ক্ষেত থেকে বন্য হাতির মরদেহ উদ্ধার : আটক ০১
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ।। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ইনানী রেঞ্জাধীন রাজাপালং বন বিটের আবু শামার ঘোনায় বৈদ্যুতিক ফাঁদ বানিয়ে হাতি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে জমির ধান ক্ষেতে আসা হাতিকে হত্যার পর মৃতদেহ মাটিচাপাও দেয় দুষ্কৃতকারীরা।

রোববার দুপুরে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে হাতির মরদেহ উদ্ধার করেন। এসময় হত্যায় জড়িত একজনকে আটকও করা হয়েছে। 

রোববার (২৩ অক্টোবর ) রাত ৯ টার সময় হাতির ময়না তদন্তের পর পুনরায় হাতির মরদেহ মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। 

বনবিভাগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে উখিয়া উপজেলার ইনানী রেঞ্জাধীন রাজাপালং বন  বিটের আবু শামার ঘোনা নামক স্থানে জমির ধান ক্ষেতে আসায় 
ক্ষুদ্ধ হয়ে অবৈধভাবে একটি বন্য হাতিকে হত্যা করে দুষ্কৃতকারীরা। পরে শনিবার গভীর রাতে ধান ক্ষেতের পাশে হাতির মরদেহ মাটিচাপা দেয়া হয়।

স্থানীয় লোকজন বনবিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেন। পরে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু ও বিট কর্মকর্তা ক্যাচিং মার্মা সহ সঙ্গীয় স্টাফরা রোববার দুপুরে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেয়া হাতির মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল হতে আবুল সামাকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। 

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তারা মো. সারওয়ার আলম জানান, রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইম ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুপন নন্দীর নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে যান।রাত ৯ টার দিকে মৃত হাতির ময়না তদন্ত শেষ হয়। রাতেই হাতির মরদেহ পুনরায় মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে।
মৃত হাতির ময়না তদন্ত করেন চকরিয়া উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুপন নন্দী ও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন
হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইম।

এব্যাপারে উখিয়া থানায় ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের ৩৬ (১) ধারায় আনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইম বলেন, মৃত ওই হাতির শরীরে বাহ্যিক কোন ক্ষত চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ফাঁদ বানিয়ে হাতিকে হত্যা করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর হাতি হত্যার কারণ জানা যাবে।