কক্সবাজারে প্রদর্শিত অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মহড়া

কক্সবাজারে প্রদর্শিত অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মহড়া
অত্যাধুনিক অস্ত্র কাঁধে টুলু/ সংগৃহীত

কক্সবাজার প্রতিনিধি, ৩১ আগষ্ট।। কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভুতিয়া পাড়া এলাকার তোফায়েল আহমেদ টুলু অবৈধ অস্ত্র কাঁধে নিয়ে ঘুরাঘুরি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। 

ছবিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত তোফায়েল আহম্মেদ টুলু অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র কাঁধে নিয়ে গভীর জঙ্গল থেকে বের হচ্ছে ।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার জেলার যেসব জায়গায় সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, প্রায় সব জায়গাতেই অস্ত্রের দেখা মিলেছে। ফলে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের একটা প্রবণতা ধীরে ধীরে যেন প্রকট হয়ে উঠছে। কিন্তু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোনো অভিযানের খবর বেশ কিছুদিনের মধ্যে দেখা যায়নি, এতে করে জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। 
কাঁধে নেয়া অস্ত্রটি কার, কেনো টুলু অস্ত্র কাঁধে নিয়ে পাহাড়ে ঘুরাঘুরি করছে তার কোন উত্তর মেলাতে পারছে না স্থানীয়রা। টুলু অস্ত্র কাঁধে নিয়ে তোলা ভাইরাল হওয়া ছবিটি ইতোপূর্বেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড হয়েছে। 
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাহাড়ে ঘুরাঘুরির দৃশ্য দেখে স্থানীয় কাঠুরিয়া, সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী, পথচারী, এলাকাবাসীর মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, আগ্নেয়াস্ত্র কাঁদে নিয়ে ছবিতে থাকা ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভুতিয়া পাড়ার মৃত ছৈয়দ আকবরের ছেলে তোফায়েল আহমেদ টুলুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানা, রামু থানাসহ বিভিন্ন থানা -আদালতে বন, পরিবেশ, অস্ত্র, ডাকাতি, অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ডজনাধীক মামলা রয়েছে। 
স্থানীয়রা আরও জানান, তোফায়েল আহমেদ টুলু এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তুচ্ছ ঘটনা নিয়েও এই তোফায়েল আহমেদ টুলু অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে অনেকেই।
অভিযোগ রয়েছে, এক সময়ের ঈদগড় -ঈদগাঁও সড়কের শীর্ষ ডাকাত তোফায়েল আহমেদ টুলু রাতারাতি বন বিভাগের হেডম্যান পরিচয় দিয়ে অপরাধ মুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। টুলু নিজেকে বন বিভাগের হেডম্যান (বন জায়গীরদার প্রধান) পরিচয় দিয়ে মেহেরঘোনা রেঞ্জের আওতাধীন বিপুল পরিমাণ বনভুমি দখল করেছে। বনধ্বংস করে বনবিভাগের জমি বিভিন্ন লোকজনকে প্লট আকারে বিক্রিও করেছে। পরিবেশ বিধ্বংসী কাজে জড়িত রয়েছে এই টুলু। মেহের ঘোনা রেঞ্জের বশিরের খামারের পাশে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে।
স্থানীয় ভুতিয়াপাড়া এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বনভুমি বিক্রি করার পর ক্রেতাদেরকেই বন মামলার আসামী করে হয়রানিসহ নানারকম নির্যাতন করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা এসব অপরাধের  বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না, কেউ কেউ প্রতিবাদ করতে গিয়ে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। টুলুর নির্যাতনে এলাকাবাসী দিশেহারা অবস্থায় আছে। 
স্থানীয় চিহ্নিত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় টুলু এসব অপরাধ মুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অবৈধ অস্ত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আসলেও অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অস্ত্রধারী সেই টুলুকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, সম্প্রতি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কাঁধে একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা আরো বলেন, তোফায়েল আহমেদ টুলু পাহাড়ের স্বঘোষিত রাজা। বনের গাছ চুরি, বনভুমি দখল, সড়কে যানবাহন ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র ব্যবসা এখন তার নিত্যদিনের পেশা। ঈদগড়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী বন্দুক কালু ও মোস্তাক আহমদ বাবুলের অস্ত্র তৈরীর কারখানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে উচ্চ মুল্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিক্রি করে আসছিল৷ তার অপরাধের তালিকা দিনদিন দীর্ঘ হলেও প্রশাসনে নীরবতায় উৎকন্ঠিত ভুক্তভোগীরা। 
স্থানীয়রা টুলুর অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার উদ্ধার করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
অবৈধ অস্ত্র কাঁধে নিয়ে তোলা ছবির বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ টুলু বলেন, অস্ত্রটি মেহেরঘোনা রেঞ্জের। বন পাহারা দিতে বন বিভাগের পক্ষে দিয়েছিল অস্ত্রটি।
তবে, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের মেহের ঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম বলেন, টুলুকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র দেয়া হয়নি। পাবলিকের হাতে অস্ত্র দেয়ার কোন আইন নেই, তাকে অস্ত্র দেয়ার প্রশ্নই আসে না।
রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম আরও বলেন, টুলু বন বিভাগের হেডম্যান নয়। তিনি বনায়নের উপকারভোগী। অন্য উপকার ভোগীদের মতো তাকেও সামাজিক বনায়ন পাহারা দিতে হয় বলে জানান রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সুত্রে জানা গেছে,  এই দুর্ধর্ষ তোফায়েল আহম্মেদ টুলু গোপনে বিদেশ পালানোর জন্য সব আয়োজন শেষ করেছে। যে কোন সময় সে বিদেশ পালাতে পারে।
প্রর্দশিত অস্ত্র কোথায় ব্যবহার হয় জানতে চাইলে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “অবৈধ অস্ত্র মূলত দু’টি জায়গায় ব্যবহৃত হয়। প্রথমত, সন্ত্রাসীরা হত্যা, চাঁদাবাজি, লুটতরাজের কাজে ব্যবহার করে। আর দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক অঙ্গনে। সেখানেও সংঘাতের সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়। "
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, “আমাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে  প্রতিটি জায়গায় প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহে অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়।" 
তিনি বলেন,"অস্ত্রের প্রদর্শনের বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ত্র কাঁধে নিয়ে ছবি দেখা গেছে। লোকমুখে অস্ত্রটি বন বিভাগের বলে শুনেছি, তারপরও যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"