কক্সবাজারে প্রশাসনের কঠোরতার মাঝেও মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা 

কক্সবাজারে প্রশাসনের কঠোরতার মাঝেও মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২৬ জুলাই।। কোভিড-১৯ করোনা সংক্রমণ রোধে কক্সবাজারে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতার মাঝেও ‘কঠোর লকডাউনে’ মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। নানা ছুতোয় লোকজন স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। হাকডাক দিয়ে চালকরা যাত্রী পরিবহন করছেন। হকারের মত পসরা সাজিয়ে মার্কেটের সামনে বসেছেন দোকানদাররা।

গত শনিবার রাতে কক্সবাজার জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত হয় লকডাউনের তৃতীয়দিন রবিবার থেকে কক্সবাজারে আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপিত হবে। লোকজনের চলাফেরা ও যান চলাচলে কঠোর হবে প্রশাসন। এমনকি সেখান থেকে আটকের সিদ্ধান্তও হয়। আর সেই কঠোরতা নিশ্চিত করতে রাতভর জেলা জুড়ে মাইকিংও করা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কিন্তু রোববার ভোর থেকে কক্সবাজার শহরে দেখা মিলল উল্টো চিত্র। 
সোমবারের লকডাউন ছিল আরও ঢিলেঢালা। শুধু কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে লকডাউন' বাস্তবায়নে বসানো চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশি আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্ত যানবাহন, মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিক রয়েছে। 
সোমবার সকাল ১০ টা। ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে ২৫/৩০টি সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম ইজিবাইক। চালকরা গন্তব্যস্থানের নাম ধরে হাকডাক দিচ্ছে। এরই পাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অল্প অংশ খুলে চলছে বিকিকিনি। ঈদগাঁও বাজারের অলিগলিতে খোলা রয়েছে কসমেটিকস, মুদির ও ষ্টেশনারী দোকান। একটু এগোতেই প্রধান সড়কের আশেপাশের দোকান বন্ধ থাকলেও লোকজনের আনাগোনা ছিল লকডাউনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের চেয়ে অনেক বেশি। রিকশা, টমটম সিএনজির দখলে ছিল প্রধান সড়ক। মাঝেমধ্যে মোটর সাইকেল, কার মাইক্রোরও দেখা মিলেছে।
মহাসড়কের রামু রশিদ নগর ও জোয়ারিয়া নালা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে বসানো চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছে আনসার, গ্রাম পুলিশ, স্কাউটের সদস্যরা।
বিভিন্ন যানবাহন আটকে দেয়া হচ্ছে চেকপোস্ট। যাত্রীরা পায়ে হেটে চেকপোস্ট অতিক্রম করলেই মেলে ফের যানবাহন।
রামু বাইপাস মোড় ফুটবল চত্বরে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। তবে একটু দুরে যানবাহনে ঠিকই যাত্রী উঠা নামা ও পরিবহন করা হচ্ছে। মহাসড়কের রামু চাকমারকুল ও লিংক রোডে বসানো চেকপোস্টে দেখা গেল ঢিলেঢালা ভাব।
লিংক রোডে সামনে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে আছে ৫০/৬০ টি সিএনজি ও ইজিবাইক টমটম। কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবস্থা আরও করুন। লকডাউনের কোন প্রভাব বাস টার্মিনালে চোখে পড়েনি। মানুষের জীবন যাত্রা ছিল ঠিক আগের মতোই। 
কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা থেকে প্রধান সড়ক ধরে পশ্চিমে অল্প এগোতেই ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্পের সামনে দেখা মিললো ভ্রাম্যমান আদালতের গাড়ির। অথচ তার নাগালের মধ্যে যাত্রীর জন্য হাকডাক দিচ্ছে রিকশা, টমটম ও সিএনজি চালকরা। আরেকটু এগোতেই ১০/১২ জন হকারকে ঘিরে শহরের লালদিঘীর পাড়ের বিলকিস মার্কেটের সামনে দেখা মিললো লোকজনের জটলা। এখানে ডেকেডেকে বিক্রি হচ্ছে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম ।
এছাড়া শহরের টেকপাড়া, বাহারছড়ার অভ্যন্তরিন সড়ক, ঝাউতলা, গাড়ির , নুনিয়ারছড়া ও পেশকার পাড়া, কালুর দোকান, রুমালিয়াছড়ার ছোট বড় অধিকাংশ দোকানই খোল ছিল।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বত্র টহল অব্যাহত রেখেছেন।
সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপরেও বিভিন্ন অজুহাতে মানুষ বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 
কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম ) আবু সুফিয়ান বলেন, লকডাউনের তিন দিনে জেলায় আড়াই শতাধিক মামলা হয়েছে। ওই সব মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অন্যদিনের চেয়ে প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা অনেকগুলো গাড়ি আটক করে রেখেছি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, শুধু আইনের প্রয়োগ করে তো লকডাউন শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। এর জন্য জনগনের সদিচ্চাও সচেতনতা দরকার। তিনি আরো বলেন, এটি সত্যি একশ্রেনীর মানুষ করোনার ভয়াবহতা না বুঝে লকডাউন নিয়ে প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি খেলছে। তারা নিজেরাও সর্বনাশের দিকে এগুচ্ছে, অন্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এরপরেও জনগণকে ঘরে রাখার অপ্রাণ চেস্টা চলছে।