কক্সবাজারে বনদস্যুর হামলায় আট বনকর্মী আহত

কক্সবাজারে বনদস্যুর হামলায় আট বনকর্মী আহত
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৪ সেপ্টেম্বর।। কক্সবাজারের রামুতে বনদস্যুদের কয়েক দফা হামলায় জোয়ারিয়া নালা রেঞ্জের কর্মকর্তাসহ ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে জোয়ারিয়া নালা বনবিটের অধীনে ভিআইপি টিলা এলাকায় মুরগী ফার্মসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফেরার সময় পথিমধ্যে চার দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহতদের উদ্ধার করে রামু ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, শনিবার ৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের জোয়ারিয়া নালা রেঞ্জাধীন জোয়ারিয়ানালা বনবিটের বনভুমিতে ভিআইপি টিলা এলাকায় অবৈধ মুরগীর ফার্ম সহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বনকর্মীরা
উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে অবৈধ দখলদার চক্র বনকর্মীদের উপর ন্যাক্কার জনক হামলা চালায়। প্রথম দফায় ভিআইপি টিলা এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়েছে ৮ জনকে। এতে গুরুতর আহতরা হলেন, জোয়ারিয়া নালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সোলতান মাহমুদ টিটু, জোয়ারিয়া নালা রেঞ্জ কর্মকর্তার সোলতান মাহমুদ টিটু, পিএমখালী রেঞ্জকর্মকর্তা আবদু জব্বার, এফজি বাসু দেব বনিক, বাগান মালি অসীম সরকারসহ ৮ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশংকাজনক। 

কক্সবাজার বিশেষ টহল দলের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু খায়ের মোঃ ইলাহী জানান, জোয়ারিয়া নালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সোলতান মাহমুদ টিটুর নেতৃত্বে বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিটের বনকর্মী এবং বনজাগীরদার অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান থেকে ফেরার সময় পথিমধ্যে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ জন আহত হয়েছে। 

জোয়ারিয়া নালা বনবিটের অধীনে ভিআইপি টিলা এলাকার আশপাশে বনবিভাগের জমিতে সৃজিত লেবু বাগান, মুরগীর ফার্ম, মাছের প্রজেক্টসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার মালিকরাই সহ ৫০/১০০ জনের বনদস্যু তাদের উপর আক্রমন করে। এসময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গুলিও বর্ষণ করে হামলাকারীরা। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিআইপি টিলায় মুরগী ফার্ম, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ইতোপূর্বে অবৈধ লেবু গাছ উচ্ছেদের কৈফিয়ত চেয়ে বনকর্মীদের অবরোদ্ধ করে রাখে। বনকর্মীরা ফেরার চেষ্টা করলে এলোপাতাড়ি কুপানো হয়। বনকর্মীরা ফাঁকাগুলি ছুঁড়ে চলে আসতে চাইলে পথে আরো ৩ বার হামলায় পড়ে বনবিভাগের লোকজন।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)
মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, বনভুমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ফেরার সময় পথিমধ্যে বনকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা চরম অমানবিক। পর্যায়ক্রমে বনবিভাগের বেদখল হওয়া এই এলাকার সব বনভুমি উদ্ধারে প্রক্রিয়া চলছে। আহতদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। 
সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জনবল ও মনোবল সংকটে পড়েছে বন বিভাগ। জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে বনকর্মীদের নির্মম হামলার শিকার হচ্ছে। বনের জমিতে বনায়ন সৃজন ও বনভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে বনকর্মীদের একের পর এক নির্মম হামলার শিকার হতে হয়। যেমন জনবল সংকট তেমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবশালীদের চাপের কাছে হার মানতে হয় তাদের বারে বারে। এটা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, বনের জমিতে ইটভাটা, মুরগী ফার্ম, লেবু বাগানে নামে বিশাল বনভুমি দখল, বনের জমিতে করাত কল, বনের কাট ইটভাটাতে হাজার টন পুড়ানোর পর অবশিষ্ট চারা গাছটুকু কেটে নিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্বে কথা বলা যাবেনা ! 
বনবিভাগের জমি দখলকারীর তালিকা হলেও চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়। বনকর্মীদের নির্মম হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।