কক্সবাজার সৈকতে এবার ভেসে এলো ডলফিনের মৃত বাচ্চা 

কক্সবাজার সৈকতে এবার ভেসে এলো ডলফিনের মৃত বাচ্চা 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।কক্সবাজার, ১৮ মে।। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দুটি বড় তিমির পর এবার ভেসে এসেছে ডলফিনের মৃত বাচ্চা। 

সোমবার (১৭ মে) বিকালে জনশূন্য কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী সাইমন বিচ পয়েন্টে বাচ্চা ডলফিনের মৃতদেহটি দেখতে পায় বীচকর্মী ও লাইফ গার্ডের সদস্যরা। মৃত বাচ্চা তিমির আনুমানিক দৈর্ঘ্য ছিল ৮ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট।

পরে সোমবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় ডলফিনের বাচ্চাটিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে সৈকতের একপাশে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
ভেসে আসা ডলফিনের বাচ্চার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল জানিয়েছেন বীচকর্মী ও লাইফগার্ডের কর্মীরা।
এর আগে গত ৯ ও ১০ এপ্রিল মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি ও দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসে বালিয়াড়িতে আটকা পড়ে দুটি মৃত তিমি। প্রাণী দুটির ওজন ছিল যথাক্রমে- ১০ ও ১২ টন। লম্বায় ৪২ – ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ছিল ২৪- ২৫ ফুট। 
কক্সবাজার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ধারণা- তিমি দুটির বয়স আনুমানিক ১৫-২০ বছর। তিমি দুটি ‘ব্রাইডস হুয়েল’ অথবা ‘বলিন’ প্রজাতির।
কক্সবাজারের উপকূলে একের পর এক ডলফিন, তিমিসহ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশবাদী এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের জন্য।

কক্সবাজার সৈকতের লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সৈকতে হাঁটার সময় দূর থেকে কিছু একটা দেখতে পাই। কাছে এসে দেখি একটি ডলফিনের বাচ্চা মরে পড়ে আছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল।’

বিচকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ডলফিনের বাচ্চাটিকে দেখে মনে হয়েছে আনুমানিক ২/৪ দিন আগে মৃত্যু হয়েছে। শরীরের কিছু অংশে পচন ধরেছিল।’
তিনি আরও জানান, সমুদ্র সৈকতে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ডলফিনের বাচ্চাটিকে সৈকতের পাশে বালিয়াড়িতে পুঁতে ফেলা হয়েছে । 
সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সমুদ্রে অনিয়ন্ত্রিত নৌযান চলাচল ও তীব্র দূষণের কারণে একের পর এক ডলফিন ও তিমি মারা যাচ্ছে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে‌ ভবিষ্যতে সামুদ্রিক প্রাণিসম্পদ রক্ষা করা দুষ্কর হয়ে পড়বে।
এর আগে কক্সবাজার সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্ট পরপর ৯ ও ১০ এপ্রিল সমুদ্র সৈকতে দুটি মৃত তিমি ভেসে আসে। এর মধ্যে একটি তিমির দৈর্ঘ্য ৪৪ ফুট ও প্রস্থ ২৬ ফুট ছিল। অন্য তিমিটির দৈর্ঘ্য ৪২ ফুট ও প্রস্থ ছিল ১৪ ফুট।
কক্সবাজারের রামু হিমছড়ি ও দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন বালিয়াড়িতে ভেসে আসা দুটো মৃত তিমিই ছিল পুরুষ। এদের আত্মহত্যা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তিমি দুটোর শরীর পর্যবেক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ, বন ও পরিবেশ অধিদফতর এবং সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক বলেন, তিমি দুটো পুরুষ ছিল। গভীর বঙ্গোপসাগরে বড় কোনো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার কারণে একদিন আগে-পরে কক্সবাজারের রামু সৈকতের হিমছড়ি ও দরিয়ানগর পয়েন্টে ভেসে আসে মৃত তিমি দুটো। এখানে হত্যা নাকি আত্মহত্যার বিষয়টি এখনো প্রমাণিত হয়নি।