কক্সবাজার সৈকতে ফটো শিকারীদের ফাঁদে পর্যটক : আটক-৩

কক্সবাজার সৈকতে ফটো শিকারীদের ফাঁদে পর্যটক : আটক-৩
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী মোড়ে ফটো শিকারীদের ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন পর্যটক দম্পতি। এ ঘটনায় ৩ ফটোগ্রাফারকে আটক করা হয়। পরে একজনকে এক হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের ভ্রাম্যমান আদালত। অপর ২ জনের ক্যামেরা ও কার্ড জব্দ করা হয়েছে। 

দন্ডপ্রাপ্ত ভুঁয়া ফটোগ্রাফার নুর মোহাম্মদ কলাতলী বিকাশ বিল্ডিং এলাকার বাসিন্দা। অন্য দুইজন সোহেল ও সুরেজ জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত সৈকতে নিয়োজিত  ফটোগ্রাফার। 
শনিবার (২০আগস্ট) রাতে সৈকতের লাবণী পয়েন্টের জেলা প্রশাসনের অভিযোগ ও তথ্য কেন্দ্রে অভিযুক্তকে এ দন্ডাদেশ দেয়া হয়।
সুত্রে জানা গেছে, সৈকতে ফটো শিকারীদের ফাঁদে পড়ে পর্যটকরা নাজেহাল ও হয়রানী শিকার হচ্ছে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ আগষ্ট শনিবার সন্ধ্যায় ভুঁয়া ফটোগ্রাফার নুর মোহাম্মদ সহ তিনজনকে আটক করে টুরিস্ট পুলিশ ও বীচ কর্মীরা। 
আটকের পর রাতে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে নুর মোহাম্মদকে এক হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং ওই ভুঁয়া ফটোগ্রাফারকে সহায়তার অভিযোগে ২ জনের 'ক্যামেরা ও কার্ড' জব্দ করার হয়।
সুত্রে আরো জানা গেছে, ফটোগ্রাফারদের ড্রেস কোড থাকলেও নকল গেঞ্জি তৈরি করে অবৈধভাবে ছবি তোলা ও পর্যটক হয়রানী করে আসছিল নুর মোহাম্মদ। গত কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে আগত পর্যটকদের নাজেহাল ও হয়রানী অভিযোগ উঠে ভুঁয়া ফটোগ্রাফার নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। এঘটনা কালিন সময় দৃশ্যগুলো ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরে ফুটেজ দেখে ভুয়া ফটোগ্রাফারসহ তিনজনকে সনাক্ত করেন বীচ কর্মীরা। বীচ কর্মী মাহবুবসহ ট্যুরিস্ট পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করেন। পরে অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
দন্ডপ্রাপ্ত ভুঁয়া ফটোগ্রাফার নিজের দোষ স্বীকার করে আর কখনো ভুয়া ফটোগ্রাফার হয়ে সৈকতে না নামারও মুচলেকা দেন।
পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, পর্যটক হয়রানিতে জড়িত থাকলে এদের কোন ছাড় নেই। সৈকতে নিযোজিত ফটোগ্রাফারদের ডাটা সংরক্ষণ করেছি। এখানে অবৈধ বা ভুঁয়া ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার কোন সুযোগ নেই। আমরা মুহূর্তেই আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে সংবাদকর্মীসহ বীচের সকল ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।