কক্সবাজারে সন্ত্রাসী বাহিনী 'আরসা' গ্রুপের শীর্ষ গান কমান্ডার গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে সন্ত্রাসী বাহিনী 'আরসা' গ্রুপের শীর্ষ গান কমান্ডার গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, ১৮ জুলাই।। ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের আগেও বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার নির্যাতনে শিকার হয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার চাপ বাংলাদেশকে নিতে হচ্ছে। কক্সবাজার জেলায় ৩৪ টি শরনার্থী ক্যাম্পে এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। শরণার্থী ক্যাম্প গুলোর কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নানা সমস্যা বাংলাদেশকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এখন এসব ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বা সশস্ত্র তৎপরতা ঘটছে।

ক্যাম্পে হচ্ছে অস্ত্র, মাদক ব্যবসাসহ নানান অপরাধ। খুনোখুনি ও অপহরণের ঘটনাও ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদকসহ অপরাধী ধরছে; এরপরেও তৎপরতা কমছে না। এরপেছনে রয়েছে আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নামের সন্ন্যাসবাদী গ্রুপ।
তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে।
এদিকে, কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ড্রোন অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আরসা’ (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) গ্রুপের শীর্ষ গান কমান্ডার সৈয়দুল আমিনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন। তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং রোহিঙ্গা  ক্যাম্প-৭, ব্লক- জি/১ এর আমির হোসেনের ছেলে।
গত ১৭ জুলাই রাজাপালং ক্যাম্পে ড্রোন উড়িয়ে চালানো অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক পিপিএম।
তিনি আরও জানান, রবিবার ভোর ৫ টার দিকে রাজাপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প ৭ এ ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে অভিযান চালানো হয়। এসময় ক্যাম্পের জি/১ ব্লকে কিছু সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা শনাক্ত করা হয়। 
পরে উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছৈয়দুল আমিনকে আটক করা হয়। 
তার স্বীকারোক্তি মতে তার বসত ঘরের টিনের ট্রাংক এর ভিতর থেকে একটি দেশীয় বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘ ছয় মাস মিয়ানমারের গহীন অরণ্যে তথাকথিত আরসা গ্রুপের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা স্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়। অতি সম্প্রতি সে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে আসে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
আটক করা আরসা নেতাকে জব্দকৃত অস্ত্রসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এরআগে গত ১৬ জানুয়ারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এর প্রধান মোহাম্মদ আতাউল্লাহর ভাই মোহাম্মদ শাহ আলী গত ১৬ জানুয়ারি আরসা প্রধানের ভাই মো. শাহ আলীকে অস্ত্র, মাদকসহ গ্রেপ্তার করে। 
তিনি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে অপহরণ, মাদক কারবার সহ নানারকম অপরাধের সাথে জড়িত একটি দলের নেতা ছিলেন।
মাদকের পাশাপাশি এখন অবৈধ অস্ত্র রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আরসার তৎপরতার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ক্যাম্পগুলো থেকে বিভিন্ন সময় ভারী অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে। আরসা বা এ ধরনের কোনো সংগঠন যাতে এখানে তৎপর হতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।