কক্সবাজারে ৩ পর্যটকের মৃত্যু : হত্যার অভিযোগে দু'টি মামলা -আজকাল বাংলা 

কক্সবাজারে ৩ পর্যটকের মৃত্যু : হত্যার অভিযোগে দু'টি মামলা -আজকাল বাংলা 
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২০ মে।। কক্সবাজার শহরে ও উখিয়ায় অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু হওয়া ২ পর্যটক তরুণীর অভিভাবক বাদী হয়ে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে পৃথক ২ টি মামলা দায়ের করেছেন।

এরমধ্যে কক্সবাজার শহরের কলাতলি হোটেল বিচ হলিডে-তে অবস্থানকারী পর্যটক তরুণী লাবণী আকতার মৃত্যু ঘটনায় তার বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম জানান, বৃহস্পতিবার লাবণীর বাবা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে যাত্রাবাড়ী এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে কামরুল আলম ও আবদুর রহমানের ছেলে আরিফ রহমান নিলুকে আটকের পর ৫৪ ধারায় কারা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই মামলায় পলাতক রয়েছেন শরিয়তপুর জেলার নুরিয়া এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে তানজিল হাসান ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মাহিম হাসান অনিক।

ওসি সেলিম আরও জানান, মামলার এজাহারে উল্লেখ্য করা হয় লাবণী আকতারকে এক আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। অভিযুক্ত ৪ জন কৌশলে তার মেয়েকে কক্সবাজার এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।

ওসি সেলিম জানান, ৪ বন্ধুসহ ১১ মে কক্সবাজার আসেন লাবণী। এসে কলাতলীর বীচ হলি ডে নামের একটি আবাসিক হোটেল অবস্থান নেন। ওখানে ১৪ মে অসুস্থ হলে তরুণীকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৬ মে ওই তরুণীকে আইসিইউতে হস্তান্তর করা হয়। এসময় সঙ্গে আসা ৪ জনের মধ্যে ২ জন স্বীকার করেন তারা অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিল। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হলেও অপর ২ জন পালিয়ে গেছে। গত ১৮ মে বুধবার দুপুরে লাবণী আকতার হাসপাতালে মারা যান।

অপরদিকে, ১৮ মে বুধবার সন্ধ্যায় উখিয়া ইনানী হোটেল রয়েল টিউলিপে অবস্থান নেয়া মাফুয়া খানমের মৃত্যুর ঘটনায় ভাই ছৈয়দুল ইসলাম বাদী হয়েছে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেন ওসি (তদন্ত) গাজি সালা উদ্দিন।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সালা উদ্দীন জানান, ১৯ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক একজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

ওসি আরও জানান, ১৮ মে বধুবার সকালে গোপালগঞ্জের তরুণী মাফুয়া খানম দিনাজপুরের নাছির উদ্দিন নামের যুবকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেল রয়েল টিউলিপে উঠেন। একইদিন দুপুরে খাবার শেষে দুইজনই নিজেদের কক্ষে অবস্থান নেন। এর কিছুক্ষণ পর তরুনীর শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কথা অবহিত করা হলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী ছিল না। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে তার বোনকে কক্সবাজার এনে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নাছির উদ্দিন পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, কক্সবাজার সাগর পাড়ের তারকা মানের হোটেল সী গালে ১৮ মে বুধবার রাতে মো. মনিরুল ইসলাম নামের এক পর্যটকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। এ ঘটনায় স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে উঠা লিজা রহমান ঊর্মিকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন।

তিনি জানান, স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে ২ জন বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় সী গাল হোটেলের ৭২৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন। ওখানে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে অসুস্থবোধ করলে পর্যটক মনিরুলকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাত ১ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় স্ত্রী পরিচয়ে সঙ্গে থাকা নারীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। কিন্তু তার স্বামী-স্ত্রী নয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আটক নারী স্বীকার করেছেন। পুরুষের স্বজনদের খবর পাঠানো হয়েছে। আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শুক্রবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পর্যটক তরুণীসহ ৩ পর্যটক মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে। ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত ২ নারী পক্ষে দায়ের করা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অপর পর্যটকের আত্মীয়রা আসলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।