শিক্ষার্থী ছাড়া মাদরাসায় ১৩ শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি বেতন নিচ্ছে ১৯ বছর

শিক্ষার্থী ছাড়া মাদরাসায় ১৩ শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি বেতন  নিচ্ছে ১৯ বছর
ছবি: সংগৃহীত

মো.ফোরকান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।পটুয়াখালী বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নের পূর্ব ইন্দ্রকূল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদরাসায় কোন শিক্ষাথী নেই অথচ ওই মাদরাসার ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী ১৯ বছর ধরে সরকারি বেতন নিচ্ছেন! 

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে জন্য সরেজমিন একাধিকবার ওই মাদরাসায় গিয়ে একজন শিক্ষার্থীও পাওয়া যায়নি। লাইব্রেরি কক্ষে রাখা হয়েছে মাদরাসা সংলগ্ন অন্য লোকের ঘর তৈরির সিমেন্টের বস্তা, শিক্ষকরা দেখাতে পারেননি চক, ডাস্টার, ব্লাকবোর্ড, ছাত্রী হাজিরা খাতাসহ কোন শিক্ষা উপকরণ ।

জানা গেছে, ১৯৯৪ইং সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় আবদুল মোতালেব নামের এক ব্যাক্তি। তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিষ্ঠার পর থেকে। ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয় প্রষ্ঠিানটি । ইবতেদায়ি ও দাখিল মাদরাসা । ইবতেদায়ি প্রথম শ্রেণী থেকে দাখিল ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোতি রয়েছে। 

কাগজে কলমে ওই মাদরাসায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে একজন শিক্ষার্থীও নেই। হাজিরা খাতায় প্রতিদিন গড়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হয় ২০-৩০ জন। এ মাদরাসায় ইবতেদায়ি বিভাগে ৪জন, দাখিলে ৫জন শিক্ষক, অফিস সহকারী ১জন, আয়া ১জন, নাইট গার্ড ১জন ও ১জন দপ্তরিসহ মোট ১৩জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। তারা প্রতিমাসে সরকারি ভাবে ২ লক্ষ ৮হাজার টাকা বেতন উত্তোলন করেন। 

আইরিন বেগম নামের একজন শিক্ষক ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর শেষ উপস্থিতি স্বাক্ষর করেছেন। এরপর আর গত ৭ মাস শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর নেই। অথচ প্রতিমাসের বেতন উত্তলন করেছেন তিনি। মোবাইল ফোনে কথা হয় আইরিন বেগমের সাথে। তিনি জানান, মাদরাসায় একটি খুটি থাকলেও তিনি নাকি বেতন পাবেন। 

মাদরাসার সুপার মাহফুজা বেগম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। ২০০৯ সালের পর শিক্ষকদের মধ্যে ঝামেলা হওয়ায় শিক্ষার্থী একেবারেই নেই। দূরের কিছু শিক্ষার্থী এ মাদরাসায় ভর্তি করে দাখিল পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাই মাদরাসাটি টিকে আছে।

এব্যপারে বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাজমুল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত থাকতে পারে না, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।