কাঠালিয়ার সমাজসেবা কর্মকর্তার বদলীতে দূর্নীতিবাজদের উচ্ছাস

কাঠালিয়ার সমাজসেবা কর্মকর্তার বদলীতে দূর্নীতিবাজদের উচ্ছাস
ছবিঃ সংগৃহীত

 আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঠালিয়ায়
দূর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে সৎ ও সাহসী পদক্ষেপের গ্রহন করে আলোড়ন
সৃষ্টিকারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেনের ঘটনায়
দূর্নীতিবাজ চক্রের মাঝে উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছে। ৮ মাসের মাথায় গত ২৬ জুন
রবিবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক
আদেশে তাকে জেলার নলছিটি উপজেলায় বদলী করা হয়েছে।০৬ জুলাই এরমধ্যে নতুন
কর্মস্থলে যাওয়ার আদেশটি জানাজানি হলে উপজেলার অসহায় বয়স্ক, প্রতিবন্ধী,
হতদরিদ্রসহ সুধী মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
     গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর কাঠালিয়ায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম
দেলোয়ার হোসেন যোগদান করেন। সৎ ও সাহসী এ কর্মকর্তা যোগদানের পর উপজেলার
বিভিন্ন এতিমখানার নামে কোটি টাকার দূর্নীতি বন্ধ করা, উন্মুক্তভাবে
বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও যাচাই-বাছাই করে ভাতা প্রদানের
মাধ্যমে দূর্নীতি বন্ধসহ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে ঘুষ ও দূর্নীতিমুক্ত
করেন।
     জানাগেছে, কাঠালিয়া উপজেলার নিবন্ধনকৃত ১৭টি এতিমখানায় ৬০৯জন এতিম
নিবাসী দেখিয়ে সরকারী অনুদানের নামে প্রতিবছর  প্রায় দেড় কোটি (১ কোটি ৪৬
লাখ ১৬ হাজার) টাকা লোপাট করা হতো। এসএম দেলোয়ার কাঠালিয়ায় যোগদানের পর
একাধিক বার পরিদর্শন করে ১৩টি এতিমখানায় কোন এতিম নেই বলে ধরা পড়ে।
বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিলে উক্ত ১৩টি ভূয়া এতিমখানার বরাদ্ধ
বাতিল হয় ও প্রকৃত ৫টি এতিমখানার ৮৬ জনের বরাদ্ধ বহাল থাকে।
    সৎ সাহসী এ কর্মকর্তা বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীসহ সরকারের অন্যান্য সুবিধা
ভোগীদের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই ও ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া চালু
করেন। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও হয়রানী ছাড়াই
তাদের বরাদ্ধের টাকা পেতে শুরু করে। শুধুমাত্র এতিমখানার দূর্নীতি বন্ধ
করে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ১ কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের হাত
থেকে রক্ষা করেন।
    চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের ৯৮ বছর বয়সী বাসিন্দা
বিবেকান্দ সিকদার জানান, কয়েক বছর আগে আমি ভাতা পাওয়ার জন্য কাগজপত্র
দিলেও টাকা দিতে না পারায় ভাতা পাইনি। নতুন সমাজসেবা অফিসার আসার পর সে
সত্যতা যাচাই করলে আমি ভাতা পেতে সক্ষম হই।
     উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা খানম বলেন, উপজেলা সমাজসেবা
কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন সৎ, সাহসী ও পরিশ্রমী একজন কর্মকর্তা। এখানে সৎ
অফিসারদের স্বাধীনভাবে কাজ করা খুবই কঠিন। আপোসহীন এই কর্মকর্তার হঠাৎ
বদলীতে সৎ সাহসী কর্মকর্তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।
    কাঠালিয়া সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি যোগদানের
পর থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি।
দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করায় একটি মহল মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন
দপ্তরে নামে-বেনামে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। সরকারী চাকুরিতে বদলী স্বাভাবিক
প্রক্রিয়া হলেও কি কারণে আমাকে হঠাৎ বদলী করা হয়েছে তার সঠিক কারন জানা
নেই।
    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন,
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা একজন ভালো ও সৎ মানুষ। তিনি এখানে যোগদানের পর
বেশ কয়েকটি সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সরকার ও সাধারন মানুষ উপকৃত হয়েছিল।