কন্যাশিশুর ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে সমাজের সোচ্চার ভূমিকা চাই

কন্যাশিশুর ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে সমাজের সোচ্চার ভূমিকা চাই
ছবিঃ সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।।মো. নজরুল ইসলাম।।“আমরা কন্যাশিশু- প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবো, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বো” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে প্রত্যয় কিশোরী সংগঠনের আয়োজনে এবং বারসিক এর সহযোগিতায় পালিত হলো জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২১। দিবসকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যয় কিশোরী সংগঠনের সভাপতি খাদিজা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্যের দিকগুলো তুলে ধরে বক্তারা কন্যাশিশুর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধে সকলে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করার দাবী তুলে ধরেন। 


দিবসকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানী প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুচিত্রা রায়কে সভাপতি করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। 
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, “আজ জাতীয় কন্যাশিশু শিশু দিবস। কন্যা বলতে মা, ভগিনি, সন্তানকে বোঝায়। ছেলেদের তুলনায় এদের আলাদা করে দেখা উচিত নয়। মেয়েরা অনেক ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। আজ এই কমিটি গঠনের ইদ্যোগ সত্যিই ভাল উদ্যোগ। আমাকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো সকল ধরণের সহযোগিতা করার।”কিশোরী সংগঠনের সদস্য মিথিলা আক্তার বলেন, “আমরা মেয়ে বলে পরিবার থেকে অনেক অবহেলা করে। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে কৈয়ফিয়ত দিতে হয় কেন দেরী হলো। কিন্তু আমার ভাইকে কোনো কৈয়ফিয়ত দিতে হয়না। আমরা এই অবহেলা চাই না। সমান অধিকার চাই।”সংগঠনের সভাপতি খাদিজা আক্তার বলেন, “আমি ফুটবল খেলতে খুব ভালোবাসি। বারসিক এর সহযোগিতায় বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল খেলি। সমাজের লোকজন অনেক কথা বলে। মেয়ে বলে মানুষ মনে করেনা। কিন্তু একজন ছেলে কি খেলে না খেলে তা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু এটা ঠিক নয়। আমরা আমাদের সম্মান চাই। অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই।”


বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানী প্রতিরোধ নব গঠিত কমিটির সভাপতি সুচিত্রা রায় বলেন, “আজ জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। এমন একটি দিনে বারসিক বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানী প্রতিরোধে কমিটি গঠন করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। আজ সবাই মিলে আমাকে সভাপতি করেছে। আমি জানিনা আমি এর যোগ্য কিনা তবে শিক্ষার্থীরা আমাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে আমি তা অন্তর দিয়ে পালন করবো। তোমাদের যে কোনো সমস্যায় আমার সাথে আলোচনা করবে আমি কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যদি বলতে না পারো অভিযোগ বক্সে লিখে জমা করবে। আমি তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আজকের এই দিবসে আমাদের প্রত্যাশা হোক বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানীমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।”
উল্লেখ্য প্রতিবছর ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিশু সপ্তাহ পালন করা হয়। শিশু সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন ৩০ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এই দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র সমূহ হল শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায্য অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা, ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক তথা বাল্যবিবাহ। কোথাও ভাল নেই কন্যাশিশুরা। ঘরে-বাইরে, শহর-গ্রাম, চরাঞ্চল-উপকূল কোথাও নিরাপদ নয় কন্যাশিশু। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ কন্যাশিশু। আর বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ কন্যাশিশু হলেও, তাদের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। দেশে নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ ও অগ্রগতি লাভ করেছে। তার পরও কন্যাশিশুর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আসুন সবাই মিলে কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। কন্যাশিশুকে আপন সত্ত্বায় বেড়ে উঠার সুযোগ করে দিই।