করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও থেমে নেই পাঠদান  লেখাপড়ার চলছে শিক্ষকের বাড়ীতে

করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও থেমে নেই পাঠদান  লেখাপড়ার চলছে শিক্ষকের বাড়ীতে
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের।। স্টাফ রিপোর্টার।। ২৮ জুন, সোমবার।। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো টানা প্রায় ষোলো মাস ধরে বন্ধ। কোভিড-১৯ বা করোনা মহামারী আকার ধারনের পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক-সহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
 আগামীর প্রজন্ম এসব শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। এমন এক সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ। 
করোনা মহামারীকালেও কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যত চিন্তা করে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রতি শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি।
শিক্ষকদের বাড়ীতেই স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ দূরত্ব মেনে লেখা-পড়া চালানো হচ্ছে পুরোদমে। যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বিদ্যালয়ের বিকল্প হিসেবে এমনভাবে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালাতে সহযোগিতা করছে ফ্রেন্ডশিপ। 
লেখাপড়ার পাশাপাশি, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কৌশলও শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ছাত্রী-ছাত্রীদেরকে। তারা এগুলো শিখে পরিবার-পরিজনকেও করছে সচেতন। 
সম্প্রতি সরেজমিনে মিডিয়া প্রতিনিধিরা গাইবান্ধার মোল্লার চরের সিধাই গ্রামে গেলে জামিলা বেগম নামের শিক্ষকের বাড়িতে তাকে একটি টিনের দোচালা ঘরে ক্লাশ নিতে দেখা যায়। এসময় পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া নাজমুল, শাকিল, মরিয়ম, মাহসিনার সাথে কথা বললে তারা জানায়, স্যারেরা স্কুলের ছাত্রদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে করোনাকালিন সময়ে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘন্টা করে পড়া বুঝিয়ে দেন ও বাড়িতে পড়ার পরামর্শদেন। এতে আমাদের পড়া লেখার ঘাটতি হয়নি।
তারা আরো জানায়, ম্যাডামের ঘরে ঢোকার সময় সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধয়ে মুখে মাস্ক পড়ে সামজিক দুরত্ব বজায় রেখে চটে বসে পড়া দেই ও শিখে নেই।এছাড়াও ম্যাডাম তাপ মাত্রা মেপে ক্লাসে বসতে দেয়। পড়া লেখার পাশাপাশি আমরা পরিবারের লোকজনকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করি।
এব্যাপারে কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে তারা জানান, বিভিন্ন স্কুলের ছেলে মেয়েরা বাহিরে ঘুরে বেড়ায়। এসময় আমাদের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে। এতে খুব ভালো লাগে।তারা বলেন, সব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের এভাবে ক্লাশ করালে ভালো হতো। এতে তারা আর মোবাইল গেম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারতোনা।

শিক্ষক জামিলা বলেন, করোনা প্রতিরোধের সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমি শিশুদের নিয়মিত পড়াতে আমারো ভালো লাগে। তাপমাত্রা মেপে তাদের ঘরে নেই। কারো শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। এবং ফোনের মাধ্যমে তার পড়ালেখার খবর ও পড়া বুঝিয়ে দেই।এতে করে তাদের পড়ালেখার কোন  ঘাটতি হয়নি।
তিনি আলো বলেন, ফ্রেন্ডশীপের শিক্ষা কর্মসূচীর সুপার ভাইজার গণ নিয়মিত ক্লাশ পরিদর্শন করেন।শিশুদের ভালোমন্দের খোঁজ খবর নেয়। প্রতি শেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন আলাদাভাবে এক থেকে দেড়ঘন্টা করে ক্লাশ নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
  
ফ্রেন্ডশিপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের সবিধা বঞ্চিত প্রায় ১০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া এমন বিকল্প পন্থায় চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ী গিয়ে বা অভিবাবকের সাথে যোগাযোগ করে নেয়া হচ্ছে লেখাপড়ার খোঁজখবর।
 ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রুনা খান জানান, করোনকালে সুবিধা বঞ্চিত চরবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজর দিয়েছে ফ্রেন্ডশিপ।
 এ সংস্থার অধীনে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানে আনা হয়েছে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে ফোনে যোগাযোগ, শিক্ষকের বাড়ীতে লেখা-পড়ার আয়োজন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজ-খবর নেয়ায়, সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিবাবক, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসন। 
এ ধরণের সাধুবাদ এবং উৎসাহ, ফ্রেন্ডশিপের কাজে আরও গতি আনবে বলে আশা করেন তিনি। প্রত্যন্ত চরে ফ্রেন্ডশিপের ৪৩টি প্রাথমিক এবং ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধীনে চলছে এই পাঠদান ব্যবস্থা। 
ছাত্রীদের দক্ষতা বাড়াতে ১২০ টি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ক্লাস নিচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ। ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যালয়ের শিক্ষদের পাঠদান সহজ করতে আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন প্রশিক্ষনের।