করোনায় পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ।। পর্যটক শুন্য দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে 

করোনায় পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ।। পর্যটক শুন্য দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।। কক্সবাজার, ১৮ মে।। বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন, সৈকতে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ৷ এসব সৌন্দর্য্যের পসরা নিয়ে উপকূলে প্রকৃতি রচনা করেছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত৷ ১২০ কিলোমিটার বিস্তৃত এ অবিচ্ছিন্ন সৈকত কক্সবাজার শহর থেকে শুরু করে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত দীর্ঘ৷ 

দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র, আকাশ ছোঁয়া পাহাড়সহ বেশ কিছু আকর্ষণীয় স্থান (পর্যটন স্পট) রয়েছে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে৷ 
করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারও ঈদে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোতে। ঈদের ছুটিতে প্রতি বছর দীর্ঘতম সৈকতে এবং পর্যটন স্পটগুলোতে লাখো মানুষের ঢল নামে, সেখানে এখন হাহাকার। সব দিকে ফাঁকা। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরু থেকেই দীর্ঘতম সৈকতে জনসমাগম ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের মতো কক্সবাজারের সবগুলো পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। সেই থেকে সৈকতসহ পর্যটন এলাকাগুলো বন্ধ রয়েছে। 

বিধি-নিষেধ শিথিল হলে আবারও সমুদ্র সৈকতসহ সব পর্যটন স্পট খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
কক্সবাজার সৈকতে ঘুরতে যাওয়ার চেস্টাকারী অনেকে বলেন, ঈদের দিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি। তাই বন্ধুদের নিয়ে ঈদের তিনদিন পর এসেছিলাম সৈকতে। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশ সৈকতে নামতে দেইনি। আনন্দের ঈদে নিরানন্দ মনে ফিরে গেছি বাড়ী।

কক্সবাজারের ঈদ করা সরকারী প্রতিষ্ঠানে এক কর্মকর্তা বলেন, স্ত্রী ও বাচ্ছারা সৈকতে যেতে চেয়েছিল, কিন্ত পুলিশ সৈকতে যেতে দেয়নি। পরে ঝাউবিথীর ফাঁকা দিয়ে তারা নেমে পড়েছিল সৈকতে। অনেকদিন পর কোলাহলমুক্ত এমন পরিবেশে এসে তাদের ভালো লেগেছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, কাউকে সৈকতে প্রবেশ করতে দেয়া 
হচ্ছে না। প্রতিটি পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট রয়েছে। এছাড়া সৈকতেও সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আল আমিন পারভেজ বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এসব পর্যটন স্পটগুলো বন্ধই থাকবে। জনসমাগম ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।