কলাপাড়া ধুলাসারে বন বিভাগের  যায়গায় ঘের নির্মাণ ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন। 

কলাপাড়া ধুলাসারে বন বিভাগের  যায়গায় ঘের নির্মাণ ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন। 
ছবিঃ সংগৃহীত

আতিকুর রহমান মিরাজ। পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।।কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি  চরে সরকারী কোন অনুমতি ছাড়াই প্রায় শত শত  একর জায়গায় বেকু দিয়ে মাটি কাটা ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ঘের নির্মান করছে প্রভাবশালীরা ।  

 মান্নান শরিফ, পিতা এফরাজ শরিফ, ৮ নং ওয়ার্ড গঙ্গামতি বন বিভাগের জমি দখল করে  মাছ চাষের জন্য ঘের
নির্মান করেন ও অবৈধ ভাবে বন বিভাগের জায়গা থেকে  বালু কেটে বসতবাড়ী ভরাট করে। এতে কেওড়া,ছইলা সহ কয়েক প্রজাতির গাছ মারা যায়। 
স্হানীয়রা জানায়, এভাবে বাধঁ দিয়ে ঘের নির্মানের কারনে পানি আটকে থাকবে ,যার ফলে যেকোন সময় বাকি গাছ গুলোও মরে গিয়ে সম্পূর্ন ধংস হয়ে যেতে পারে। চর গঙ্গামতি বন শুধু বনই নয়, উপকূলবাসীর প্রাণ রক্ষাকারী। সিডর আম্ফান, আয়লা, বুলবুল, নার্গিস, সর্বশেষ ইয়াস এই সকল ঘুর্ণিঝড় থেকে উপকূলবাসীর রক্ষা কবজ এই বন। বনের এই গাছপালা নিজেদেরকে বিলিয়ে দিয়ে রক্ষা করে এই বেড়িবাঁধের কাছে থাকা মানুষসহ উপকূলবাসীদের। তিনের এক অংশ ভেঙে গেছে বন। এতো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও  এখনো দাড়িয়ে আছে। তাও অনেক সময় বন দস্যুরা গাছ কেটে বন উজার করছে । প্রভাবশালীরা বড় বড় ঘের তৈরী করে  মাছ চাষ করছেন। এভাবে বন নিধন অব্যাহত থাকলে  একদিন মানব রক্ষাকারী বনটি বিলিন হয়ে যাবে বলে মনে সচেতন মহল মনে করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১০ টি কেওড়া গাছ সহ বেড়িবাঁধ দিয়ে ১ একর জায়গায় জুড়ে ঘের নির্মাণ করেন, হেলাল শরিফ। এই ঘের থেকেই ড্রেজিং করে বালু নিচ্ছেন তার বাসায়। নিজ ভাই হান্নান শরিফের  ড্রেজার থাকায় রাতের আধাঁরে বালু তুলছেন নিজ বসতবাড়ীতে। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী সাংবাদিকরা সেখানে গেলে তাদেরকে টাকার আফার দেওয়া হয়। টাকা না নেওয়ায় রাঁতের আধারে পাইপ খুলে পাশেই রাখা হয়। জোয়ারের পানি  উঠিয়েছেন  ড্রেজিং করা গর্ত যেন না দেখা যায়। শুধু হেলাল শরিফ নয় এভাবে অবৈধ ভাবে ঘের করার অভিযোগ আশপাশের যায়গা গুলোতে । এমনকি বন বিভাগের অফিসের কাছেই বন জঙ্গল সাফ করে কৃষি সহ বসতবাড়ি গড়ে উঠছে। এইসব কৃষকরা কৃষি দিলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দিতে হয়ে ঘুষ। তা না হলে গাছ কাটার মামলা দেয়ার হুমকি দেন ।  

অদৃশ্য কারণে বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই অনিয়ম নজরে আনছেন না। এমনি একজন বিট অফিসার মোশাররফ হোসেন তার কাছে মুঠো ফোনে এই অনিয়মের কথা জানালে তিনি বলেন আমি আল্প কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করেছি আমি ভালো একটা জানিনা। মান্নান শরিফের কথা বলছেন সকালে গিয়ে আমি পাইপ উঠিয়ে দিয়েছি। এই ঘের মান্নান শরিফ করতে পাড়েন কিনা জানতে চাইলে ফোনটি কেটে দেন। অভিযোগ আছে এই বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই বন উজাড় সহ বসতবাড়ি ঘের নির্মাণ করেন।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন  ২০১০-এর ধারা ৫-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪-এর (খ) অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারী দুই বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বলা বাহুল্য, এসব আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। আর আইন ভঙ্গকারী যদি প্রভাবশালী হন, তাহলে তো আইন প্রয়োগের কোনো প্রশ্নই নেই।

এ ব্যাপারে মহিপুর রেইঞ্জের বন কর্মকর্তা আবুল কালামের কাছে জানতে চাইলে তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার সাথে কথা বলা যায়নি।