খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শখের ছাদবাগান

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শখের ছাদবাগান
ছবিঃ সংগৃহীত

তৌহিদুল ইসলাম।। স্টাফ রিপোর্টার।। ১০ আগস্ট, মংগলবার।। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে ছাদবাগান। ছাদবাগান ব্যস্ত নগর জীবনে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া এনে দিতে পারে। গ্রামীণ আবহ আর টাটকা ফল-সবজির জুড়ি নেই ছাদবাগানে। তাইতো ছাদবাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।

জানা গেছে, বছর দুয়েক আগে ছাদবাগান শুরু করেন ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম। তার বাগানে আম, লিচু, আপেল, পেয়ারা, মিষ্টি জলপাই, সফেদা, শরীফা, মিষ্টি তেঁতুল, লটকন, মিষ্টি কামরাঙা, জাম্বুরা, ড্রাগন ফল, কদবেল, তাইওয়ান কুল, লেবু, কমলা, মাল্টা, করমচা, চেরি ফল, জামরুল, ডালিম, বেল, ক্যাপসিকাম ও আমড়াসহ ফলদ প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিক গাছ আছে। অফিস ভবনের মাঝে হঠাৎ সবুজে ঘেরা ছাদ তাক লাগিয়ে দিয়েছে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসা সেবাগ্রহীতা ও দর্শনার্থীদের।

ছাদে বাগান করে ইউএনও যেমন মনে আনন্দ পাচ্ছেন তেমনি বিশুদ্ধ শাক-সবজি ও ফল পাচ্ছেন। বাগানে এমন কিছু ফল গাছ আছে যেগুলোতে সারা বছরই ফল ধরে। ফলে ছাদের বাগানে চাষ করা বিষমুক্ত ফল দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আবাসস্থল। কমছে ফসলি জমি। অন্যদিকে কংক্রিটের শহরের মানুষের গাছ লাগানোর মতো জায়গা পাওয়া  দুষ্কর। তাই যেকোনো জায়গার উপযুক্ত ব্যবহার করা ইতিবাচক দিক। আগে প্রয়োজন খোলামেলা জায়গা। হোক সেটা ছাদ কিংবা বারান্দা। যাতে সেখানে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো আসতে পারে। এর সঙ্গে মিলে দরকার আপনার অদম্য ইচ্ছাশক্তি। এই দুইয়ের মিশ্রণে আপনার কংক্রিটের ছাদটাকে রূপ দিতে পারেন সবুজের সমারোহে।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব-উল- ইসলাম জানান, সবুজ মানেই সতেজতা। সবুজ মানেই প্রশান্তি। যান্ত্রিক এই শহরে সবুজের এতটুকু উপস্থিতিও যেন অনেকখানি প্রশান্তি এনে দেয়। ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি ভালোবাসার টানে বিভিন্ন গাছপালা লাগিয়েছি। খানসামায় যোগদানের বছর খানেক পর ছাদ বাগান তৈরি করি। তিনি সবাইকে সৃষ্টিশীলতা ও নান্দনিকতা চর্চার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এই মহামারির সময়ে ছাদ ও পরিত্যক্ত জায়গায় বাগান করলে একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর হয়। সময়গুলো অনেক ভালোভাবে কেটে যায়।