খুলনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির,বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

খুলনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির,বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে  হামলার প্রতিবাদে নেত্রকোনায়  মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

অর্ণব দত্ত, নেত্রকোনা : খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার শিয়ালি গ্রামে গত ৭ আগষ্ট সন্ধ্যা পৌনে ৬টাহিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবালয়,বাড়িঘর,দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। নির্যাতনের শিকার হয় অনেকে। আবার অনেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে যায়। জানা যায় সেদিন শতাধিক মুসলিম যুবক রামদা, চাপাতি, কুড়াল নিয়ে শিয়ালি গ্রামে হামলা চালায়। তাঁরা অতর্কিতভাবে বাজারের বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর করে। এ সময় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে ঘরে থাকা সকল মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এই ঘটনার ১০ জনকে ধরতে সমর্থ হয়েছে পুলিশ। এমন ঘৃণ্য ও ন্যাক্কার জনক সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে, হামলাকারীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দাবি করে, ১৩ আগষ্ট শুক্রবার নেত্রকোনায়, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট নেত্রকোণা শাখার আয়োজনে সকাল ১১ টায় নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাব এর সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক পুতুল রঞ্জন রায় বিশ্বাস, উপদেষ্টা সজিব সরকার, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুবির চন্দ্র সরকার, হিন্দু ছাত্র সংগঠনের আহবায়ক নয়ন বিশ্বশর্মা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, দেশে হিন্দুদের বাড়িঘর হামলায় এ পর্যন্ত কোন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি বিধায় বার বার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এই হামলার সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা। একইসঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধে এবং হিন্দু ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রকে আরও গুরু দায়িত্ব পালনের দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। বাংলাদেশের হাজার বছরের, আবহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতীর এক ক্ষেত্র। সকল ধর্ম,বর্ণ,জাতি নির্বিশেষে পারস্পরিক সহবস্থান এই দেশের ঐতিহ্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের স্বাধীনতাকামী জনগন একসাথে যদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশের সংবিধান সকল ধর্ম, বর্ণের সম অধিকারের কথা নিশ্চিত করে। স্বাধীনতা বিরোধী,উগ্র ধর্মান্ধ ও ধর্মের অপব্যাখ্যা কারী গোষ্ঠী যারা এই দেশের স্বাধীনতাকে কোন দিন মেনে নিতে পারেনি তাদের ভাবাদর্শী প্রেতাত্মারা বাংলাদেশের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতিকে বিনষ্ট করতে পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অতি সক্রিয়। তারা বিভিন্ন সময় এই দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর হামলা,নির্যাতন,লুটপাট সহ বিভিন্ন ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটায়। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সকল মহান অর্জন, এমন কর্মকান্ডের ফলে অনেকটা ফিকে হয়ে যায়। সম্প্রদায়িকতার মূলউৎপাটন না করতে পারলে বাংলাদেশকে আবারো পিছিয়ে পড়তে হবে। জিরো টলারেন্স নীতিতে সকল সাম্প্রদায়িকত হামলার নির্দেশ দাতা ও হামলাকারী সকলের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পাবে আগামী প্রজন্ম।