গাইবান্ধার নাতি জামাইয়ের বিরুদ্ধে নাতনিকে ধর্ষন দেখিয়ে নানা শ্বশুড়ের থানায় মামলা ! জনমনে প্রশ্ন 

গাইবান্ধার নাতি জামাইয়ের বিরুদ্ধে নাতনিকে ধর্ষন দেখিয়ে নানা শ্বশুড়ের থানায় মামলা ! জনমনে প্রশ্ন 
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের।। স্টাফ রিপোর্টার।। গাইবান্ধা।। ২২ মে, শনিবার।।  নাতি জামাইয়ের বিরদ্ধে নাতনিকে ধর্ষন দেখিয়ে নানা শ্বশুড়ের করা মিথ্যা মামলয়া জেল হাজতে রয়েছে এক যুবক ৪ মাস ধরে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নের গড়গড়িয়া গ্রামের বুলুর পুত্র শামিমের সাথে। এজাহারে ধর্ষন ঘটনার ১২ নভেম্বর ২০২০ ইংতারিখ দেখালেও মামলার তিনমাস পর  গত ২৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে মণিষা। এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি ভুক্তভোগি শামিমের পরিবারের।

মামলার বাদী আতিয়ার রহমানের গত ২৬ জানুয়ারী ২০২১ ইং তারিখের এজাহারের রুজুকৃত রংপুর জেলার পীরগাছা থানায় ২৫/২৫ নং আবেদনে  জানা যায়,  তার কন্যা আকলিমার গর্ভের সন্তান মনিষা আক্তার মীম(১২) পীরগাছার মকসুদ খাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। সেই সাথে তার স্ত্রী আছিমা বেগমের পুর্বে বিয়ে হয়েছিলো সে দিকের একটি কন্যা সন্তান ছিলো । যার নাম ছিলো শাহিলা। তাহার বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গড়গড়িয়া গ্রামে। 

সেই সুবাদে নাতি শামীম তাদের বাড়িতে এবং আমরা শামীমের বাড়িতে আসা যাওয়া করতাম।  এসময়ে শমিীম তার নাতনির মনিষার সাথে ভালোবাসার সর্ম্পর্ক ধরে তার বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন সময় ও তারিখ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করিয়াছে। 

ঘটনার তারিখ ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তারা বাড়িতে না থাকার সুযোগে শামীম তার নাতনী মনিষাকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষন করে। একসময়ে তার নাতনীর চিৎকারে আসামী শামীম কৌশলে পালিয়ে যায়। এতে মনিষা গর্ভবতী হয়ে পড়ে।

 এঘটনায়  গত ২৬ জানুয়ারী /২১ ইং তারিখে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধীত/০৩)এর ৯(১) ধারা থানায় মামলা  হয়। ওই দিনেই পীরগাছা থানা পুলিশ  শামীমকে তার বাড়ি গড়গড়িয়ার  সাঘাটা থেকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করে।

অপরদিকে ঘটনাটি নিয়ে আসামীর পরিবারের পিতা-মাতা ও স্থানীয় লোকজন জানায়, মনিষা ও শামীম খালাতো ভাই বোন সর্ম্পক ছিলো।  উভয় পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে মামলার বাদী মনিষার নানা আতিয়ারসহ শামীমের বাড়িতে গত ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ইং তারিখে ইসলামী শরা শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় শামীম ও মনিষা। মোহরানা ধার্য করা হয় এক লাখ বিশ হাজার টাকা।

 বয়স কম থাকায় বিবাহ রেজিষ্ট্রি নিবন্ধন করতে পারিনি। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সুখেই সংসার করছিলো।

 ঘটনার দিন বাদী তাদের সংসারে উন্নয়ন কল্পে ৬০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে দাওয়াত দিয়ে পীরগাছা তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। এবং সেখানে গেলে মনিষাকে আসতে না দিয়ে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

 পরে গত ২৬ জানুয়ারী ভোর ৪টায় পুলিশ  শামীম ঘুমন্ত অবস্থায় এসে আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি তার বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা করেছে তার নানা আতিয়ার। সেই থেকে অদ্যবধি শামীম রংপুর জেলা হাজতে রয়েছে।মিথ্যা মামলায় জেল খাটছে।

 বিয়ের প্রমান কি জানতে চাইলে তারা বলেন মনিষার সাথে শামীমের বিয়ের অনেক ছবি রয়েছে। এমনকি কন্যা সন্তান হবার পরে আমরা পীরগাছা গেলে তাতেও আমার নাতনীকে কোলে নিয়ে ছবি রয়েছে আমার। তবে তারা বিবাহ রেজিষ্টি না করায় দুঃখ প্রকাশ করেন। 
তারা আরো বলেন, আমাদের সাঘাটার গড়গড়িয়া  গ্রামের ও মনিষার গ্রামের শতশত মানুষ জানে । মনিষা এখানেই সংসার করতো। মাঝে মাঝে তার বাড়িতে গেলে৫/৬দিন পরেই চলে আসতো।

 তারা আরো বলেন, আমার পুত্র শামীমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে মনিষার নানা আতিয়ার । তারা পীরগাছা থানা পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।