গাইবান্ধায় নতুন জাতের মিষ্টি আলুর চাষ জাপানে রপ্তানির উদ্যোগ

গাইবান্ধায় নতুন জাতের মিষ্টি আলুর চাষ জাপানে রপ্তানির উদ্যোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের।।  স্টাফ রিপোর্টার।। গাইবান্ধা, ২৭ এপ্রিল, মংগলবার।।  গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধানে শুরু হয়েছে নতুন জাতের রপ্তানিযোগ্য মিষ্টি আলুর চাষ। স্থানীয় জাতগুলোর চেয়ে নতুন এ জাতের মিষ্টি আলুর ফলন অনেক বেশি, আকারে বড়, খেতেও সুস্বাদু। রং টকটকে লাল হওয়ায় দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। তাই বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় উৎপাদিত এই কোকি ১৪ জিও জাতের মিষ্টি আলু জাপানে রপ্তানি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাঙ্গালী নদীর তীরবর্তী রাখালবুরুজ, হরিরামপুর, তালুককানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চরের পলিযুক্ত বালিময় মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মিষ্টি আলুর চাষ করছেন কৃষকরা। এবার প্রথমবারের মত কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রচলিত জাতের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নতুন কোকি ১৪ জিও জাতের মিষ্টি আলু চাষ করেছেন। নতুন জাতের এ মিষ্টি আলু চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছে কৃষকরা। 
রাখালবুরুজ ইউনিয়নের পাড় সোনাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, কোকি ১৪ জিও জাতের মিষ্টি আলু চাষে দেশীয় জাতের মতই একই সময় লাগে। এই আলু বিঘা প্রতি ৮০ থেকে ৮৫ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। দামও ভালো। কোকি ১৪ জিও জাতের আলুর চাষ থেকে শুরু করে বাজার জাত পর্যন্ত উপজেলা কৃষি বিভাগের তদারকি থাকায় কোন হয়রানি ছাড়াই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। 
নারিতো জাপান কোম্পানি লি. এর ম্যানেজার মেজবাউল ইসলাম বলেন, উৎপাদিত মিষ্টি আলু বিদেশে রপ্তানিযোগ্য করতে সঠিক পদ্ধতি ও কলাকৌশল বাস্তবায়নে উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে চাষীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। রপ্তানিযোগ্য এই আলু কৃষকের জমি থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে কিনে নেয়া হচ্ছে। 
এব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খালেদুর রহমান জানান, ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন জাতের এ মিষ্টি আলুর আবাদ সম্প্রসারণে কৃষক পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। কৃষকদের উপকরণ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি মাঠ প্রদর্শনী এবং কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ দিবস করা হচ্ছে। কৃষকরা মিষ্টি আলুর হেক্টর প্রতি ফলন পাচ্ছেন ২০ মে. টন। এ বছর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। সরকারিভাবে এবারই প্রথম ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৯ হেক্টর জমিতে কোকি ১৪ জিও মিষ্টি আলু চাষ এবং তা বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।