গোলাপগঞ্জে সম্মাননাপ্রাপ্ত ৪ জয়িতার সংগ্রামী জীবন

গোলাপগঞ্জে সম্মাননাপ্রাপ্ত ৪ জয়িতার সংগ্রামী জীবন
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। ১১ আগস্ট, বুধবার।। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার চার জয়িতার সংগ্রামী জীবন থেকে নেওয়ায় সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্তে ফুটে উঠেছে তাদের জীবনের নানা ঘটনা। জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশের আওতায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মনোনীত (৫ ক্যাটাগরী) তে সফল জননী নারী, অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানে নারী, শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সফল নারী ও নির্যাতনে বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জয়তিদের জীবনে ঘটে যাওয়া অতীত জানতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে তাদের জীবনের নানা তথ্য। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার নির্বাচিত ও সম্মাননাপ্রাপ্ত জয়িতাদের মধ্যে  অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী সুমা বেগম। 
সুমা বেগম, পিতা- সরাফত আলী, মাতা- মিনা বেগম, গ্রাম : দক্ষিন কান্দিগাঁও ডাক : বাঘা পরগণা বাজার , ইউনিয়ন :  ১নং বাঘা, উপজেলা : গোলাপগঞ্জ, জেলা : সিলেট। তিনি খুব দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তারা ০১ ভাই ও ০৩ বোন । বাবা ছিলেন একজন দরিদ্র কৃষক। অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করত। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৪ সালে তাঁর মা মারা যান। অভাবের তাড়নায় অষ্টম শ্রেণী পাশের পর তার পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। জীবনের তাগিদে তিনি অপ্সরা নামে একটি বিউটি পার্লারে প্রায় চার বছর কাজ শিখেন, অন্য একটি বিউটি পার্লারে এক বছর চাকুরি করেন। পরে নিজের কিছু বেতনের টাকা জমিয়ে ও আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার সাহায্য নিয়ে  ২০১৩ সালে “স্মার্ট বিউটি পার্লার” নামে একটি পার্লার খুলেন। এতে যে আয় হত তা দিয়ে পরিবারের খরচ চালিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয় করতেন। এভাবে তিনি দুই বোনকে বিবাহ দেন। বর্তমানে এই পার্লার হতে মাসিক আয় হয় প্রায় ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা। তিনি তার প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকজন মহিলাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অনেক দক্ষ কর্মী তৈরী করেছেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের হতাশাগ্রস্থ নারীদের আত্মনির্ভশীল করে তৈরী করার প্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখায় তাকে “অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ’’ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত করা হয়েছে।
শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী জনিকা মহালদার। 
জনিকা মহালদার, পিতা: নৃপেন্দ্র কুমার দাশ মহালদার, মাতা: বীথিকা রানী দাশ, গ্রাম : দত্তরাইল (মিশ্রপাড়া), বাড়ী নং-৩৬, ডাক: ঢাকা দক্ষিণ, ইউনিয়ন: ০৬নং ঢাকা দক্ষিন, গোলাপগঞ্জ, সিলেট ।তিনি নি¤œবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। চার বোনের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠ। দেড় বৎসর বয়সে তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। তার মাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। মায়ের সামান্য বেতনে ০৪ বোনের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার খরচ চালানো খুব কষ্টকর ছিল। তাদের কোন ভাই না থাকায় হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী পিতৃ সম্পত্তির কোন কিছুই পাননি। তার বড় বোন নিজের ও তার অন্যান্য বোনদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টায় স্বর্গীয় পিতার অন্যান্য ভাইদের তরফ থেকে শুধু অসহযোগীতা ও তাচ্ছিল্যতা পেয়েছেন। এধরনের প্রতিক‚ল পরিবেশও পরিস্থিতিতে পড়াশোনার খরচ যোগাতে ছাত্রাবস্থায়ই বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে ছাত্র পড়িয়ে ও বড় বোনের সহযোগীতায় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। তিনি স্কুল পর্যায়ে স্কাউটিং থেকে সারা বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় ১১ জনের মধ্যে স্থান পেয়েছিলেন এবং সরকারী খরচে স্কাউটিং এর জন্য ভারত সফর করেছেন। নিজের উপর সম্পূর্ন আত্মবিশ্বাস রেখে নিজস্ব চেষ্টা ও মেধায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যায় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় শ্রেনীতে প্রথম শ্রেণী পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মানবাধিকার বিষয়ে এম ফিল অধ্যায়ন করছেন। এম ফিল অধ্যায়ন করার সুবাদে ২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে মানবাধিকার বিষয় সেমিনারে অংশ গ্রহন করেন। পেশাগত জীবনে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা-তে প্রভাষক পদে কর্মরত আছেন। দারিদ্রতা ও সমাজে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে থেমে না গিয়ে শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় তাকে “ক্যাটাগরী ০২ - শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী” ক্যাটাগরীতে নির্বাচিত করা হয়েছে।