গোয়ানইঘাটে ট্রিপল মার্ডার অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা 

গোয়ানইঘাটে ট্রিপল মার্ডার অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা 
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। ১৭ জুন, বৃহস্পতিবার।।  সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই শিশুসহ তাদের মাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ১৬ জুন বুধবার রাতে নিহত গৃহবধুর পিতা আয়ুব আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলাটি করেন।
১৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ বলেন, অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই মামলায় কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। 
তিনি আরও বলেন, পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে গোয়াইনঘাটে নিহত গৃহবধূসহ তিনজনের ময়না তদন্ত চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার (১৬ জুন) ভোরে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- ফতেহপুরের বিন্নাকান্দি ফুলেরতল গ্রামের হিজবুর রহমানের স্ত্রী আলেমা বেগম (৩৫), ছেলে মিজান (৮) ও মেয়ে তানিশা (৫)। ঘটনাস্থল ঘরের ভেতর বিছানা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় গৃহকর্তা হিজবুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাÐের খবর পেয়ে সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয় দুটি হলো— জমি ও পারিবারিক কলহ।
তবে ঘটনাস্থলের আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত এবং ফোনকলের বিষয়গুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে— পারিবারিক কলহের কারণেই হিফজুর স্ত্রী-সন্তানদের বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে খুন করেন। এর পর নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান ধরেন।
স্থানীয় বিরোধের বিষয়েও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। জ্ঞান ফিরলে হিফজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন বলেন, পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাÐের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।