ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ মোকাবেলায়  কক্সবাজারে ৫৭৬ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ মোকাবেলায়  কক্সবাজারে ৫৭৬ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, ২৪ অক্টোবর।। ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ মোকাবেলা ও সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৭৬ আশ্রয়কেন্দ্র, ৮ হাজার ৬' শ স্বেচ্ছাসেবক ও ১০৮টি মেডিকেল টিম।

এরআগে রবিবার রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনসহ ৮ উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ মোকাবেলায় জেলায় ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেখানে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। ঝুঁকিপূর্ণ মুহুর্তে উপকূলের লোকজনকে সরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা হাতে রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৬০০ স্বেচ্ছাসেবক ও ১০৮ টি মেডিকেল টিম। সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৩২৩ মেট্টিক টন চাল, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন, ৯৯০ পিস তাবু, এবং ১১৯৮ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ আশরাফুল আলম জানান, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। 
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহিদ ইকবালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী একেএম তারিকুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মহিউদ্দিন আলমগীর, ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিপিপি’র উপ-পরিচালক মোঃ হাসানুল আমিন, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম
এসময় জেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাছির উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ফাহমিদা বেগম, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমুদ্রে জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়ছে। সেই সাথে বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পর্যটকদের নিরাপদ দুরত্বে থেকে সৈকত ভ্রমণের জন্য সতর্ক করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফ গার্ড ও বীচ কর্মীরা। 
সোমবার সকাল থেকে 
ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং দেখতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। তাদের উচ্ছ্বাস থামাতে বীচ ও লাইফ গার্ড কর্মীরা বাধা দিয়েও থামাতে পারছে না।
সেন্ট মার্টিনে দ্বীপে আটকা পড়া ৪ শতাধিক পর্যটককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে যাতায়াত বন্ধ থাকবে।