ঘূর্ণিঝড় ইয়াস'র প্রভাবে বাউফলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস'র প্রভাবে বাউফলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি- মোঃ ফোরকান

মো.ফোরকান,বাউফল,পটুয়াখালী।। ২৬ মে,বুধবার।।বাউফলে তেতুঁলিয়া নদীর উত্তাল ঢেউ ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পানিতে  চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে একাকার হয়ে গেছে নদী-খাল, পুকুর ও ডোবা-নালা। ভেসে গেছে ফসল নষ্ট হচ্ছে সবজি খেত  আর অধিকাংশ  মাছের ঘের। পানির চাপ আরও বাড়ছে তেঁতুলিয়ায়। দূর্যোগ মোকাবেলায় চরবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

গত দুদিন  আগ থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও চরাঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এখন ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টিপাত।

প্রবল জোয়ারে কালাইয়া টু ধানদী সড়কের মাঝামাঝি বেপারি বাড়ীর সামনে প্রধান সড়ক ছিড়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তলিয়ে গেছে নাজিরপুর ইউনিয়নের ছোট ডালিমা গ্রাম। এবং বিশ্বাস বাড়ীর সামনের সড়কেরও বেহাল অবস্হা যেকোন মুহুর্তে ছিড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে জনজীবনে উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাউফলের দাসপাড়ায় ফায়ার সার্ভিস অফিসের পূর্ব দিকের বিলটি জোয়ারের পানিতে টইটুম্বুর ওখানে আশ্রয় নেওয়া ছয়টি বেদে পরিবার পানিবন্দি।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদেরকে সতর্ক থেকে উপজেলার ১৪৩টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যখনই  প্রয়োজন হবে তখনই যেন ব্যাবহার করা যায় ওগুলো। চন্দ্রদ্বীপ ও ধুলিয়ার চর বাসুদেবপাশাসহ বিছিন্ন চরগুলোতে মসজিদের মাইকে সর্ব সাধারণকে দুর্যোগ কালীন করণীয় বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। সাইক্লোন সেল্টারগুলোর অবস্থান ও আপদকালীন সময়ে সেখানে জরুরী অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দিতে বলা হচ্ছে।
বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউপির চর রায়সাহেব এলাকার মেম্বর সালাম শরীফ  প্রতিবেদককে বলেন, চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় ঘূর্ণিঝড়ের কথা শোনলেই চরের মানুষেরা আতঙ্ক বিরাজ করে। রাতের জোয়ারে পানি আরও বাড়বে। গুচ্ছগ্রামসহ নিম্নাঞ্চলের লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে।

সর্বোপরি চন্দ্রদ্বীপের মানুষ এই মৌসুমে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করে।