চকবাজার ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনে যুবলীগ নেতা টিনুর জয়

চকবাজার ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনে যুবলীগ নেতা টিনুর জয়
ছবিঃ সংগৃহীত
এম.মতিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। শংকা থাকলেও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন।
এ নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কারাবন্দী যুবলীগ নেতা নুর মোস্তাফা টিনু। টিনুর মিষ্টি কুমড়া প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুর রউফ (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) পেয়েছেন ৭৭৬ ভোট।
কাঁটা চামচ প্রতীকে ৭৩৫ ভোটে তৃতীয় অবস্থানে আছেন মো. আলী আকবর হোসেন চৌধুরী। প্রয়াত কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টুর স্ত্রী মেহেরুন্নিছা খানম (ড্রেসিং টেবিল) পেয়েছেন ৫২৭ ভোট।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রিটার্নিং অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নিজ কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, আজ (৭ অক্টোবর) ইভিএমের মাধ্যমে ১৬ নং ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। নির্বাচন উপলক্ষে কঠোয় নিরাপত্তা মাঠে ছিলেন ৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬৯৩২টি। যা শতকরা হারে ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। 
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল।’
প্রসঙ্গত, কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু মারা যাওয়ায় এ ওয়ার্ডে আজ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা যায়, নগরীর ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৪১ জন। পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ২১৬ জন এবং নারী ভোটার ১৫ হাজার ৮২৫ জন। ১৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮৬টি ভোটকক্ষ।
ভোটগ্রহণের জন্য ১৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৮৬জন সহকারী প্রিসাইডিং ও ১৭২জন পোলিং কর্মকর্তাসহ ২৭৩ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এদিকে  এবারের চকবাজার ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির একজন এবং আওয়ামী লীগের ২০জন প্রার্থী রয়েছেন। 
তারা হলেন— যুবলীগ নেতা নূর মোস্তফা টিনু (মিষ্টি কুমড়া), মো. সামশেদ নেওয়াজ রনী (ঘুড়ি প্রতীক), মো. নাজিম উদ্দীন (কাঁচি), বিএনপির একক প্রার্থী এ কে এম সালাউদ্দিন কাউসার লাবু (হেডফোন), মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মমতাজ খান (পান পাতা), কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টুর স্ত্রী মেহেরুন্নিছা খানম (ড্রেসিং টেবিল), মো. আলী আকবর হোসেন চৌধুরী (কাঁটা চামচ), মো. সেলিম রহমান (ঠেলাগাড়ি), কায়ছার আহমেদ (প্রদীপ), মো. আবুল কালাম চৌধুরী (সূর্যমুখী ফুল), শওকত ওসমান (এয়ারকন্ডিশনার), মো. নোমান চৌধুরী (ট্রাক্টর), মো. শাহেদুল আজম শাকিল (ক্যাপ), মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন (রেডিও), মো. আজিজুর রহমান (হেলমেট), মো. আব্দুর রউফ (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), মো. নুরুল হুদা (ঝুড়ি), কাজী মুহাম্মদ ইমরান (লাটিম), মো. রুবেল ছিদ্দিকী (করাত), মো. আলাউদ্দিন (টিফিন ক্যারিয়ার), মোহাম্মদ জাবেদ (স্ট্রবেরি)।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নূর মোস্তফা টিনুকে চকবাজার এলাকা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এই ঘটনায় র‍্যাব পাঁচলাইশ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মামলাটির অভিযোগপত্রেও নূর মোস্তফা টিনুকে অভিযুক্ত করা হয়। গত ২০ জুন অস্ত্র মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় চট্টগ্রামের একটি আদালত। বর্তমানে নুর মোস্তফা টিনু কারাগারেই বন্দী রয়েছেন।