চকরিয়ায় সুদের টাকার জন্য গৃহবধূকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন

চকরিয়ায় সুদের টাকার জন্য গৃহবধূকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনিপ দাশ সৌরভ।।চকরিয়া প্রতিনিধি।।১৭ মার্চ, বুুুধবার।।সুদের টাকা পরিশোধ করতে দেরী হওয়ায় নুর আয়েশা নামের এক গৃহবধূকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সুদ ব্যবসায়ী শওকত ওসমানের বিরুদ্ধে। ৪ হাজার টাকা সুদে নিয়ে ৮ হাজার টাকা পরিশোধের পর আরও ২ হাজার টাকার জন্য নির্যাতন।এ ঘটনায় পুলিশ শওকত ওসমানের বাবা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। সেই সঙ্গে নুর আয়েশাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউপির মোরাপাড়ার হাপানিয়াকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শওকত ওসমানের বাবা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

নুর আয়েশা ওই এলাকার আলী আহমদের স্ত্রী। আলী আহমদ একজন দিনমজুর।তাদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।বরইতলী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নিয়াজুল ইসলাম বাদল বলেন,কয়েক মাস আগে নুর আয়েশা তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য শওকত ওসমানের কাছ থেকে সুদে চার হাজার টাকা নেয়। তবে ইতোমধ্যে নুর আয়েশা সুদ ও আসলসহ ৮ হাজার টাকা পরিশোধও করেন।মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শওকত ওসমান আরো দুই হাজার টাকা দাবি করেন।কিন্তু নুর আয়েশা ওই টাকা বৃহস্পতিবার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তা মানতে নারাজ সুদ ব্যবসায়ী শওকত ওসমান।এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শওকত ওসমান গৃহবধূ নুর আয়েশাকে একটি গাছের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর ও অমানবিক নির্যাতন চালায়।তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুরে।কিন্তু ভুক্তভোগী নারী এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলায় জানা যায়নি।পরে বুধবার সকালে ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল হলে সর্বত্র জানাজানি হয়।বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ সুদ ব্যবসায়ী শওকত ওসমানের বাবা জহির আহমদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।ভিডিওতে দেখা যায়, শওকত ওসমান একটি গাছের সাথে শাড়ির আঁচল দিয়ে বেঁধে রাখেন নুর আয়েশাকে। এ সময় নুর আয়েশা তার বাঁধন খুলে দিতে বলেন।কিন্তু নুর আয়েশার আকুতি মিনতিতে সাড়া না দিয়ে শওকত ওসমান কিল-ঘুষি মারতে থাকে তাকে।এক পর্যায়ে নুর আয়েশাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং চুলের মুটি ধরে টানতে থাকে ও চুলের মুটিও গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।পরে স্থানীয় বেশ কয়েকজন নারী নুর আয়েশাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় শওকত।বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন,ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি চকরিয়া ইউএনও এবং ওসিকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।ভুক্তভোগী নুর আয়েশার বরাত দিয়ে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাহাতাবুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে শওকত ওসমানের কাছ থেকে সুদের ওপর চার হাজার টাকা ধার নেন।এরই মধ্যে ৮ হাজার টাকা পরিশোধও করেন। আরো দুই হাজার টাকা দাবি করে শওকত ওই গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে।চকরিয়ার থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ঘটনাটি ফেসবুকে দেখার পরপরই ঘটনাস্থলে যাই।অভিযুক্ত শওকতকে না পাওয়ায় তার বাবা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।