চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে লুট: চক্রের মূল হোতা সহ গ্রেফতার ১৫

চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে লুট: চক্রের মূল হোতা সহ গ্রেফতার ১৫
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট।। ভূয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানি খুলে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় দেড়কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারণা চক্রের ০৫ রিং লিডারসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ঃ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান সামগ্রী উদ্ধার।*

র‍্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট  অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ‘‘জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি’’ নামে একটি ভূয়া রেজিস্ট্রেশনবিহীন আর্থিক কোম্পানী ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কোম্পানিতে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

র‍্যাব ৪ জানায়, ২৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন শিমুলতলা সুপার মার্কেট সাভারস্থ ৫ তলা বিল্ডিং এর ৪র্থ তলায় অবস্থিত “জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড” এ অভিযান পরিচালনা করে ০১ টি সিপিইউ, ০১ টি মনিটর, ০২ টি প্রিন্টার, ১৫ টি রেজিস্টার, ১৪ টি মোবাইল, ১৪ টি সীম কার্ড, ০৯ টি সীল, ৩০ টি ভিজিটিং কার্ড, ০৪ টি আইডি কার্ড, ০২ টি ব্যানার, ২৫০ টি বায়োডাটা ফরম, ২০০ টি লিফলেট, ০১ টি ক্যাশ ভাউচার এবং ০৮ টি আবেদন ফরম জব্দ করা হয়। প্রতারক চক্রের  রিং লিডারসহ প্রতারক চক্রের মোঃ এরশাদ শেখ (৩১), মোঃ নাঈম শেখ (২৬), মোঃ শহিদুল্লাহ (২৩), মোঃ ইলিয়াস আহম্মেদ (২৫), মোঃ জামাল উদ্দিন (৫২), মোঃ জিয়াউর রহমান (২৫), মহসিন কবির (৪২), মোঃ কামরুল শেখ (১৯),  মোঃ আজিজুল ইসলাম (২০), হুমায়ূন শেখ (২১), মোঃ রাহাত @ অনিক (১৯), মাওলানা মাইনুদ্দিন (২৩), মোঃ বারহাম মিয়া (২০), মোঃ হিজবুল্লাহ (১৯), মোঃ চাঁন মিয়া (১৯) নামের ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

 
র‍্যাব আরো জানায়,  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা প্রতারনার কথা স্বীকার করে এবং চাকুরী প্রত্যাশী, বেকার, অসহায় ও নিরীহ লোকজনদের নিকট হতে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমান নগদ অর্থ প্রতারণামূলক ভাবে আত্মসাৎ করে আসছে। 

প্রতারণার কৌশল হিসেবে  এই প্রতারক চক্র জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে বিভিন্ন পদে ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম চাকুরীর বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে। বিজ্ঞাপন দেখে চাকুরীপ্রত্যাশী শতশত যুবক-যুবতি ও ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের এহেন বিজ্ঞাপন সরলমনে বিশ্বাস করে। প্রথমে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে রেজিষ্টেশন ফি হিসেবে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ শত ২০ টাকা করে নিত। পরে চাকুরীর নিশ্চয়তা ও মোটা অংকের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ১০/২০ হাজার টাকা নিয়ে ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে পলিসি খুলতে বাধ্য করত। ইউনিট ম্যানেজার, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, এ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার প্রভৃতি পদে ১৮ হাজার ৫০০ হতে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ইন্সুরেন্স করাতে প্রলুব্ধ করত। চাকুরী পাওয়ার পর মাসের পর মাস অফিসে আসা যাওয়া করে বেতন না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে অনেকে প্রদেয় টাকা ফেরত চাইলে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি, মারধর এমনকি প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করত। উল্লেখ্য যে, এই প্রতারক চক্র এর আগেও প্রতারণার দায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার আটক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উক্ত প্রতারণার দায়ে ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। 

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা উক্ত প্রতরণার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।